যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে শিশুদের নিরাপত্তার ঝুঁকি সংক্রান্ত এক মামলায় ১৮ বিলিয়ন ডলারের সমঝোতায় সম্মত হয়েছে মেটা। এই সমঝোতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম খাতের জন্য একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এটি পুরো শিল্পখাতে জবাবদিহিতার একটি নতুন ধারা তৈরি করতে পারে। প্রায় ২৯টি অঙ্গরাজ্যের সমন্বিত এই আইনি লড়াইটি মূলত শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা রক্ষা আইন (COPPA) লঙ্ঘনের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়েছে।
মামলার মূল বিষয়বস্তু ছিল ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহারে মেটার ভূমিকা। যদিও মেটা এই সমঝোতার মাধ্যমে কোনো ধরনের ভুল স্বীকার করেনি, তবে তারা আগামী দশ বছর ধরে এই অর্থ প্রদান করবে। আইনি লড়াইয়ে মেটা তাদের প্ল্যাটফর্মে শিশুদের সুরক্ষার জন্য তৈরি বিভিন্ন সরঞ্জামের কথা তুলে ধরেছিল, কিন্তু অভিযোগকারীদের মতে, কোম্পানিটি এসব সুরক্ষাকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করেনি।
মেটার নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা:
সমঝোতার অংশ হিসেবে মেটা কিশোর বয়সের ব্যবহারকারীদের জন্য বেশ কিছু কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কিশোর ব্যবহারকারীদের জন্য দিনে দুই ঘণ্টা সময়সীমা নির্ধারণ, যা ডিফল্ট হিসেবে সেট করা থাকবে। এছাড়া মধ্যরাত থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত এবং স্কুল চলাকালীন সময়ে নোটিফিকেশন বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি কিশোরদের পোস্ট ও কন্টেন্টে লাইক সংখ্যা সম্পূর্ণ আড়াল করা হবে। মেটা জানিয়েছে, এই পরিবর্তনের বেশিরভাগই আগামী ছয় মাসের মধ্যে কার্যকর করা হবে।
প্রভাব ও ভবিষ্যৎ:
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর নিয়মাবলী বিশ্বজুড়ে অন্যান্য দেশগুলোও অনুসরণ করতে পারে। তবে সমালোচকরা বলছেন, মেটা কেবল নিজেদের সুরক্ষায় এই সমঝোতায় পৌঁছেছে যাতে বিশাল অঙ্কের জরিমানা থেকে বাঁচা যায়। সাবেক ইনস্টাগ্রাম প্রকৌশলী ও হুইসেলব্লোয়ার আর্তুরো বেজার বলেন, মেটাকে কেবল প্রচেষ্টার জন্য নয়, বরং বাস্তব ফলাফলের ভিত্তিতেই জবাবদিহিতার আওতায় আনা প্রয়োজন। টিকটক বা স্ন্যাপচ্যাটের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী প্ল্যাটফর্মগুলোও ভবিষ্যতে একই ধরনের চাপের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।