যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ডিস্ট্রিক্ট জজ রিটা এফ. লিন রায় দিয়েছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে পেন্টাগনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিককে কালো তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্তটি অসাংবিধানিক। বিচারকের এই রায়ের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কয়েক মাস ধরে চলা আইনি লড়াইয়ে বড় জয় পেল প্রতিষ্ঠানটি। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপ ছিল আইনবহির্ভূত প্রতিশোধ যা মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনী লঙ্ঘন করে।
মামলার প্রেক্ষাপট
২০২৬ সালের মার্চ মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালতে এই মামলা দায়ের করা হয়। এতে অভিযোগ করা হয় যে, অ্যানথ্রপিক তাদের এআই প্রযুক্তি সামরিক ক্ষেত্রে ব্যবহারের বিষয়ে কিছু সীমাবদ্ধতা বা ‘রেড লাইন’ নির্ধারণ করায় ট্রাম্প প্রশাসন তাদের ওপর প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। বিচারক রিটা এফ. লিন তার রায়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে সরকারি সমালোচকদের শাস্তি দেওয়া বা তাদের ওপর প্রতিশোধ নেওয়া যায় না। তিনি প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ কর্তৃক অ্যানথ্রপিককে সরবরাহ চেইন ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করার সিদ্ধান্তকে স্বেচ্ছাচারী বলে অভিহিত করেছেন।
বিরোধের শুরু
ঘটনার সূত্রপাত গত শীতকালে, যখন পেন্টাগন এআই ল্যাবগুলোর সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তি পুনর্নবীকরণ করতে চায়। পেন্টাগন চেয়েছিল এআই প্রযুক্তি যেন ‘যেকোনো আইনানুগ ব্যবহারে’ ব্যবহারের অনুমতি পায়। অধিকাংশ কোম্পানি এতে সম্মত হলেও অ্যানথ্রপিক দুটি শর্তে অনড় ছিল। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, তাদের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমেরিকানদের ওপর ব্যাপক নজরদারি চালানো বা মানুষের নিয়ন্ত্রণহীন মারণাস্ত্র তৈরি করা যাবে না।
পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ
অ্যানথ্রপিকের সিইও দারিও আমোদি জানান, তারা সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে নয়, তবে কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ক্ষুণ্ন হতে পারে বলে তারা মনে করেন। এই অবস্থানের পর ট্রাম্প প্রশাসন অ্যানথ্রপিককে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বা ‘সাপ্লাই চেইন রিস্ক’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। এরপর পেন্টাগন গুগল, মাইক্রোসফট, ওপেনএআই এবং স্পেসএক্সসহ সাতটি কোম্পানির সঙ্গে নতুন করে চুক্তিতে আবদ্ধ হয়।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও প্রতিক্রিয়া
বিচারক তার রায়ে উল্লেখ করেন যে, সরকারি চুক্তির অবস্থানের সমালোচনা করায় অ্যানথ্রপিককে শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে, যা একটি অবৈধ কাজ। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় অ্যানথ্রপিকের মুখপাত্র ড্যানিয়েল ঘিগলিয়েরি বলেন, সরবরাহ চেইন ঝুঁকি হিসেবে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তটি যে বেআইনি, আদালতের রায়ে তা প্রমাণিত হয়েছে। তারা জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সরকারের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী।