যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় স্থাপিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত ফ্লক সার্ভেইল্যান্স ক্যামেরাগুলো জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। প্রযুক্তিনির্ভর এই নজরদারি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে অনেকে এখন ক্যামেরাগুলো ভেঙে ফেলা বা নষ্ট করার মতো কঠোর পথে হাঁটছেন। নজরদারি প্রযুক্তি নিয়ে টেক জায়ান্টদের আধিপত্যের বিরুদ্ধে এটি সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভের একটি বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ক্যামেরা অপসারণের কৌশল
ফ্লক ক্যামেরাগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বেশ স্বতঃস্ফূর্ত এবং বিকেন্দ্রীভূত। বিক্ষোভকারীরা ক্যামেরাগুলো উপড়ে ফেলা, স্প্রে পেইন্ট দিয়ে ঢেকে দেওয়া, পিটিয়ে ভেঙে ফেলা কিংবা গাড়ির নিচে চাপা দেওয়ার মতো নানা কৌশল অবলম্বন করছেন। এসব ঘটনায় অনেককে গ্রেপ্তার করা হলেও, এটি অন্য সাধারণ মানুষকে থামিয়ে রাখতে পারছে না। নাগরিক অধিকার সংগঠন ‘রিস্টোর দ্য ফোর্থ’-এর ন্যাশনাল চেয়ার অ্যালেক্স মার্থিউস জানান, ক্যামেরা অপসারণে মানুষ এখন অহিংস বা সরাসরি কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে, কারণ এই নজরদারি ব্যবস্থা জনগণের নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত রাখা হয়েছে।
জনসমর্থন ও আইনি চ্যালেঞ্জ
ক্যামেরা ধ্বংসকারী বা যারা সরাসরি পদক্ষেপ নিচ্ছেন, ইন্টারনেটে তাদের প্রতি ব্যাপক সমর্থন লক্ষ করা যাচ্ছে। জর্জিয়ার লুম্পকিন কাউন্টিতে এক পুলিশ শেরিফ ক্যামেরা ধ্বংসকারীদের ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করলে উল্টো জনগণ শেরিফের সমালোচনা করে এবং ধ্বংসকারীদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়। ভার্জিনিয়ার এক এয়ারফোর্স ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে ১৩টি ক্যামেরা কাটার অভিযোগ উঠলে তার আইনি লড়াইয়ের জন্য কয়েক হাজার ডলার অনুদান সংগ্রহ করেন সমর্থকরা।
গোপনীয়তা ও নজরদারি বিতর্ক
ফ্লক ক্যামেরা মূলত লাইসেন্স প্লেট শনাক্তকরণের উদ্দেশ্যে তৈরি হলেও বর্তমানে এটি ব্যক্তি এবং গাড়ির গতিবিধি ট্র্যাকিংয়ে ব্যবহৃত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত স্বার্থে বা স্টকিংয়ের জন্য এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মিনেসোটা এবং টেক্সাসের মতো বেশ কয়েকটি শহর জনমতের চাপে পড়ে ফ্লক ক্যামেরাগুলো সরিয়ে ফেলতে বাধ্য হয়েছে।
রাজনৈতিক অবস্থান
এই নজরদারি প্রযুক্তির বিরোধিতা এখন কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ডেমোক্র্যাট বা রিপাবলিকান—উভয় মতাদর্শের মানুষই একে ব্যক্তিগত গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। বিষয়টি নিয়ে এখন আইনপ্রণেতাদের মধ্যেও আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে এই ধরনের ক্যামেরা নিষিদ্ধ বা কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপের জন্য বিল উত্থাপন করা হয়েছে।
গবেষক ক্রিস গিলার্ডের মতে, মানুষ এখন বুঝতে পারছে যে এই প্রযুক্তি তাদের গাড়ি চালানো বা যাতায়াতকেও অপরাধের আওতায় নিয়ে আসছে। তাই সাধারণ মানুষ এখন নিজের অধিকার রক্ষায় সরাসরি প্রতিবাদে নেমেছে।