যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান প্রোটনের এক নতুন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইন্টারনেটে গোপনীয়তা রক্ষার নামে ব্যবহৃত ভিপিএন (ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক) অ্যাপগুলোর একটি বড় অংশই গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাপল অ্যাপ স্টোর এবং গুগল প্লে স্টোরে থাকা ৬৪টি ভিপিএন অ্যাপে এমন ট্র্যাকার পাওয়া গেছে, যা ব্যবহারকারীর সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করে। এমনকি এসবের মধ্যে ২৫ শতাংশ অ্যাপ সক্রিয়ভাবে ব্যবহারকারীর অবস্থান বা লোকেশন ট্র্যাক করছে।
প্রোটনের গবেষণায় উঠে এসেছে যে, এই অ্যাপগুলোর অধিকাংশের মালিকানায় রয়েছে চীনের বিভিন্ন কোম্পানি। জুন মাসেই এই অ্যাপগুলো প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ বার ডাউনলোড করা হয়েছে। ভিপিএন ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য যেখানে আইপি অ্যাড্রেস ও ভৌগোলিক অবস্থান গোপন রাখা, সেখানে এই অ্যাপগুলো ডিভাইসের আইডি, নেটওয়ার্কের তথ্য, ডিভাইসের মডেল এবং মোবাইল ক্যারিয়ারের তথ্য অনায়াসেই সংগ্রহ করছে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
এই অ্যাপগুলোর মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য চীনের মতো কর্তৃত্বপরায়ণ সরকারের হাতে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। সাংবাদিক, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি যদি নিরাপত্তার স্বার্থে এই ভিপিএনগুলো ব্যবহার করেন, তবে তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়তে পারে। প্রোটন জানিয়েছে, পরিচয় গোপন রাখতে এই কোম্পানিগুলো সিঙ্গাপুর, হংকং এবং যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোতে শেল কোম্পানি ব্যবহার করে থাকে।
গোপনীয়তার ঘাটতি ও দায়বদ্ধতা
অ্যাপল এবং গুগল তাদের প্ল্যাটফর্মে অ্যাপ অনুমোদনের ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি বা স্বতন্ত্র কোনো অডিট পরিচালনা করে না, যার ফলে সাধারণ ব্যবহারকারীরা সহজেই ভুয়া ও ক্ষতিকর ভিপিএন অ্যাপের ফাঁদে পড়ছেন। সিনিইটির জ্যেষ্ঠ লেখক অ্যাটিলা টোমাসেক জানিয়েছেন, কোনো অ্যাপ জনপ্রিয় অ্যাপ স্টোরে থাকলেই তা নিরাপদ হওয়ার নিশ্চয়তা নেই।
সুরক্ষিত থাকতে করণীয়
নিরাপদ থাকতে ব্যবহারকারীদের অ্যাপ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যেসব ভিপিএন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা, অডিট রিপোর্ট এবং আইনি এখতিয়ার সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য রয়েছে, কেবল সেগুলোই ব্যবহার করা উচিত। এ ক্ষেত্রে প্রোটন ভিপিএন ও এক্সপ্রেসভিপিএন-এর মতো নির্ভরযোগ্য সেবাদাতা বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।