স্পেনের বার্সেলোনায় অবস্থিত ইনস্টিটিউট ফর বায়ো ইঞ্জিনিয়ারিং অব কাতালোনিয়া (IBEC)-এর গবেষকরা দৃষ্টিশক্তিহীন প্রাণীদের দৃষ্টি ফেরানোর এক অভিনব উপায় উদ্ভাবন করেছেন। গবেষক দলের প্রধান পাউ গোরোস্টিজা জানিয়েছেন, এই নতুন উদ্ভাবনটি প্রথাগত জিন থেরাপি বা অস্ত্রোপচারের ঝামেলা ছাড়াই অন্ধত্বের চিকিৎসায় এক সহজ ও কার্যকর বিকল্প হতে পারে। রেটিনার ক্ষয়জনিত রোগের কারণে বিশ্বজুড়ে প্রায় ২০ কোটি মানুষ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, যাদের জন্য এই পদ্ধতি আশার আলো দেখাচ্ছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, চোখের রেটিনায় থাকা আলোক-সংবেদনশীল কোষ বা ফটোরিসেপ্টরগুলো মারা গেলেও রেটিনার ভেতরের স্নায়ুগুলো অনেক ক্ষেত্রে সচল থাকে। গবেষকরা ‘প্রস্থে৬’ (prosthe6) নামক এক ধরনের আলোক-সক্রিয় ড্রাগ তৈরি করেছেন, যা ড্রপের মাধ্যমে চোখে প্রয়োগ করলে সেই কোষগুলোকে পুনরায় সক্রিয় করে তোলে। এটি সাধারণ আলোতেই কাজ করতে সক্ষম, তাই কোনো বিশেষ সরঞ্জামের প্রয়োজন পড়ে না।
পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই ড্রপ ব্যবহারের পর অন্ধ ইঁদুরগুলো আলো ও অন্ধকারের পার্থক্য বুঝতে পারছে এবং কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই সহজাত প্রবৃত্তি অনুযায়ী অন্ধকার স্থান বেছে নিচ্ছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, এই পদ্ধতিটি মূলত রেটিনার অকেজো কোষগুলোর বিকল্প হিসেবে কাজ করে।
এই প্রযুক্তির প্রধান সুবিধা হলো, এটি ইনজেকশনের পাশাপাশি আই ড্রপ হিসেবেও ব্যবহারযোগ্য। বর্তমানে গবেষণার পরবর্তী ধাপ হিসেবে এর নিরাপত্তা এবং কার্যকারিতার স্থায়িত্ব যাচাই করা হচ্ছে। বিজ্ঞানী দলের আশা, অদূর ভবিষ্যতে এই পদ্ধতি মানুষের চিকিৎসার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা সম্ভব হবে, যা দৃষ্টিহীনদের জীবনযাত্রায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।