বেলজিয়ামের ইউনিভার্সিটি অব লিয়েজ-এর গবেষকরা জানিয়েছেন, রাতের বেলা ঘুমের মধ্যে সূক্ষ্ম ও ঘনঘন জেগে ওঠা বা ‘মাইক্রো-অ্যাওয়েকেনিং’-এর সাথে আলঝেইমার রোগের জিনগত ঝুঁকির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। আলঝেইমার লক্ষণ প্রকাশের অনেক বছর আগেই ঘুমের এই পরিবর্তনগুলো একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করতে পারে বলে গবেষক দলটি দাবি করেছেন।
গবেষক দলটি ৫০০ জনেরও বেশি সুস্থ ব্যক্তির ওপর এই গবেষণাটি পরিচালনা করেন। এতে দেখা গেছে, মধ্যবয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ঘুমের মধ্যে ঘনঘন ছোট বিরতি বা মাইক্রো-অ্যাওয়েকেনিং তাদের উচ্চ আলঝেইমার ঝুঁকির সাথে যুক্ত। তবে তরুণ বয়সীদের ক্ষেত্রে ঘুমের এমন আচরণের সাথে এই রোগের ঝুঁকির কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। ‘স্লিপ’ নামক জার্নালে প্রকাশিত এই ফলাফল ভবিষ্যতে আলঝেইমার রোগী শনাক্তকরণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।
গবেষণায় আরও উঠে এসেছে মস্তিষ্কের স্টেমের গভীরে থাকা ‘লোকাস কোয়েরুলাস’ নামক চালের দানার সমান একটি ছোট অঞ্চল ঘুমের গভীরতা ও মনোযোগ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। আলঝেইমার রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে এই অঞ্চলে অস্বাভাবিক প্রোটিন জমা হতে শুরু করে। গবেষকদের মতে, ঘুমের মান বিশ্লেষণের মাধ্যমে ব্যক্তি বিশেষের রোগের ঝুঁকি নির্ণয় করা সম্ভব হতে পারে, যা চিকিৎসা শুরুর ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তবে গবেষকরা স্পষ্ট করেছেন যে, এই ফলাফলগুলো পরিসংখ্যানগত সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে পাওয়া গেছে। এটি এখনো আলঝেইমার হওয়ার কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। তবে রোগের লক্ষণ প্রকাশের বহু বছর আগে থেকেই মস্তিষ্কে যে পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়, তা বোঝার জন্য এই গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করছে।