ইসলামে দুপুরে স্বল্প সময়ের জন্য বিশ্রাম নেওয়া বা ঘুমানোর একটি বিশেষ সুন্নাহ পদ্ধতি রয়েছে, যাকে আরবিতে ‘কায়লুলা’ বলা হয়। শরীর ও ব্রেনকে সতেজ করতে এবং দিনের ক্লান্তি দূর করে ইবাদতের শক্তি অর্জনে এই আমলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন ইসলামি বিশেষজ্ঞরা।
কায়লুলা কী
কায়লুলা হলো দুপুরের কাজের ফাঁকে মাত্র ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের একখণ্ড বিশ্রাম বা হালকা ঘুম। এটি কেবল ঘুমের নাম নয়, বরং শরীর ও মনকে শান্ত করার উদ্দেশ্যে চুপচাপ চোখ বন্ধ করে বিশ্রাম নেওয়াও এর অন্তর্ভুক্ত। ভোরের কর্মব্যস্ততা বা সংসারের দায়িত্ব সামলানোর পর দুপুরে অনেকের শরীর অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে। বিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘পোস্ট-লাঞ্চ ডিপ’ বা দুপুরের স্বাভাবিক শারীরিক অবসাদ বলা হয়।
কায়লুলার গুরুত্ব ও উপকারিতা
কায়লুলা স্নায়ুর ক্লান্তি দূর করে শরীরকে পুনরায় কর্মক্ষম করে তোলে। এটি বিকেলের অলসতা ও মেজাজের খিটখিটে ভাব দূর করতে সহায়তা করে। ইবাদতের ক্ষেত্রে এর ভূমিকা অপরিসীম। পরিশ্রান্ত শরীর নিয়ে সন্ধ্যার পর ইবাদতে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। কায়লুলা শরীরকে ঝরঝরে করে, যা মাগরিব, এশা ও তাহাজ্জুদের নামাজে একাগ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ইমাম ইবনুল কাইয়িম (রহ.)-এর মতে, এই বিশ্রাম রাতের ইবাদতের জন্য শরীরকে প্রস্তুত করে।
সুন্নাহ ও হাদিসের নির্দেশনা
ইসলামি জীবনপদ্ধতিতে কায়লুলা একটি পরিচিত সুন্নাহ আমল। আনাস ইবনে মালিক (রা.)-এর বর্ণনা থেকে জানা যায়, সাহাবিদের জীবনে দুপুরের এই বিশ্রামের প্রচলন ছিল। এছাড়া বিভিন্ন বর্ণনায় কায়লুলার প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। পূর্বসূরি আলেমদের অনেকে একে রাতের নামাজ বা কিয়ামুল লাইলের সহায়ক হিসেবে গুরুত্ব দিয়েছেন।
সঠিক নিয়ম
সর্বোচ্চ উপকার পেতে জোহরের আগে বা পরে ১২টা ৩০ মিনিট থেকে ৩টার মধ্যে ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের জন্য বিশ্রাম নেওয়া শ্রেয়। দীর্ঘ সময় ঘুমালে শরীর ভারী হয়ে যেতে পারে বা রাতের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। শান্ত ও আরামদায়ক পরিবেশে ফোন দূরে রেখে চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকলেই কায়লুলার উদ্দেশ্য অর্জিত হয়।