বাংলাদেশের ঢাকায় চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না। গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে অভিহিত করে তিনি জানান, ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে গড়ে তোলা গোপন বন্দিশালায় চালানো পৈশাচিকতার পুনরাবৃত্তি আর হতে দেওয়া হবে না।
অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান ও প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি গুমের শিকার হওয়া ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, সাজেদুল ইসলাম সুমনসহ অসংখ্য ব্যক্তির পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, বিগত দিনে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও ভিন্নমতের কারণে যারা গুম ও খুনের শিকার হয়েছেন, রাষ্ট্র তাদের এই অপরাধের দায়ভার বহন করছে।
রাষ্ট্রপতি গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের রিপোর্টের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, কমিশন ১ হাজার ৫৬৯টি ঘটনাকে সুনির্দিষ্টভাবে গুম হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এসব ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, শুধু অপরাধীদের বিচার করলেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হয় না। গুমের শিকার পরিবারগুলোর সামাজিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা, শিক্ষা ও পুনর্বাসনের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে গ্রহণ করতে হবে। তিনি এমন একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যেখানে ক্ষমতার ওপর সংবিধান ও আইনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে।