যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনের কিন্ডল ই-রিডারে ব্লুটুথ প্রযুক্তি কেন থাকে, তা নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে কৌতুহল রয়েছে। প্রযুক্তি বিষয়ক লেখক অ্যান্টনি টেরেন্স জানিয়েছেন, মূল ডিভাইসে অডিওবুক শোনা এবং ভয়েস ফিচারের সুবিধার জন্য এই প্রযুক্তি রাখা হয়েছে। সাধারণত ই-রিডারে ওয়াই-ফাই বা ক্যাবল সংযোগের মাধ্যমে বই ডাউনলোড করা হয়, তবে ব্লুটুথ অডিও ফাইল শোনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
২০১৬ সাল বা তার পরবর্তী সময়ে তৈরি কিন্ডল ডিভাইসগুলোতে ব্লুটুথ সুবিধা রয়েছে। আধুনিক কিন্ডলে কোনো ইন-বিল্ট স্পিকার বা হেডফোন জ্যাক না থাকায় ব্লুটুথ হেডফোন বা স্পিকার সংযুক্ত করা ছাড়া অডিওবুক শোনার সুযোগ নেই। এছাড়া কিন্ডলের ‘ভয়েসভিউ’ ফিচারের মাধ্যমে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা অন-স্ক্রিন টেক্সট শুনতে পান, যা মেনু নেভিগেশনের ক্ষেত্রে সহায়ক।
ব্লুটুথ যুক্ত করার নিয়ম
২০১৬ সালের পরের মডেলগুলোতে ব্লুটুথ সংযোগ করার প্রক্রিয়াটি বেশ সহজ। লাইব্রেরি থেকে অডিওবুক নির্বাচন করে ‘প্লে’ বাটনে চাপ দিলেই ব্লুটুথ ডিভাইস জোড়া বা পেয়ার করার অনুরোধ আসবে। এরপর আপনার অডিও ডিভাইসের পেয়ারিং মোড চালু করে কিন্ডল থেকে কাঙ্ক্ষিত ডিভাইসের নাম নির্বাচন করতে হবে। সংযোগ সফল হলে কিন্ডল থেকেই অডিওর ভলিউম নিয়ন্ত্রণ বা চ্যাপ্টার পরিবর্তন করা সম্ভব।
ব্লুটুথ দিয়ে পেজ পরিবর্তন সম্ভব কি
কিন্ডলের ব্লুটুথ ফিচার দিয়ে পাতা উল্টানোর (পেজ টার্নিং) কোনো সুবিধা নেই। যারা স্ক্রিনে স্পর্শ করতে পারেন না, তাদের জন্য এটি হতাশাজনক হতে পারে। তবে বাজারে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি প্রযুক্তির কিছু থার্ড-পার্টি ডিভাইস রয়েছে, যা ক্লিপের মাধ্যমে স্ক্রিনে স্পর্শের অনুভূতি তৈরি করে পাতা উল্টাতে সাহায্য করে। অ্যামাজন এখন পর্যন্ত নিজস্ব কোনো ব্লুটুথ পেজ টার্নার তৈরি করেনি। এছাড়া ব্লুটুথের মাধ্যমে কিন্ডলে কিবোর্ড সংযোগ বা স্মার্টফোনের সাথে সরাসরি ফাইল আদান-প্রদান করাও সম্ভব নয়। তবে অডিওবুক শোনা বা টেক্সট-টু-স্পিচ সুবিধা ব্যবহারের জন্য এই ব্লুটুথ সংযোগ অত্যন্ত কার্যকর একটি ফিচার হিসেবে কাজ করছে।