যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় আরবেনা-শ্যাম্পেইন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন, মাইন্ডফুলনেস, কৃতজ্ঞতাবোধ ও আশাবাদী হওয়ার মতো মানসিক চর্চা মাত্র ৮ থেকে ১২ সপ্তাহের মধ্যে রক্তচাপ ও প্রদাহসহ হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলোর উন্নতি ঘটাতে পারে। গবেষণায় নেতৃত্ব দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক রোজালবা হার্নান্দেজ জানান, দৈনন্দিন অনুশীলনের সঙ্গে নিয়মিত প্রশিক্ষণের সমন্বয় হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে নতুন এক শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
গবেষণার পটভূমি
গবেষক দলটি ইতিবাচক মনোবিজ্ঞান এবং মাইন্ডফুলনেস নিয়ে পরিচালিত ১৮টি নিয়ন্ত্রিত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফল বিশ্লেষণ করেছেন। এতে ৫০ থেকে ২০০ জন প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নিয়েছিলেন, যাদের উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদযন্ত্রের সমস্যার ঝুঁকি ছিল। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত মাইন্ডফুলনেস ও ইতিবাচক মানসিক অভ্যাসের চর্চা করেছেন, তাদের সিস্টোলিক রক্তচাপ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। একটি ডিজিটাল প্রোগ্রামের মাধ্যমে ১২ সপ্তাহে রক্তচাপ ৭.৬ পয়েন্ট পর্যন্ত কমানো সম্ভব হয়েছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
অধ্যাপক হার্নান্দেজ বলেন, এই ইতিবাচক মানসিক চর্চাগুলো মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনে, যা সুস্থ খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ করে। যদিও এই অভ্যাসগুলো রক্তচাপ কমাতে কার্যকর, তবে দীর্ঘমেয়াদী সুফল ধরে রাখতে এই চর্চাগুলো নিয়মিত বজায় রাখা প্রয়োজন।
পরবর্তী পদক্ষেপ
কার্ডিওলজি ক্লিনিকস জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণার ফলাফল হৃদরোগ প্রতিরোধে মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্বকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে রুটিন চেকআপের পাশাপাশি আচরণগত পরিবর্তনের জন্য মাইন্ডফুলনেস ও মানসিক স্বাস্থ্য সেবাকে মূল চিকিৎসা পদ্ধতির অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।