যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে রুটগার্স হেলথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন, শরীরের ওজন বা বিএমআই (BMI)-এর ওপর নির্ভর না করে কোমরের মাপ পরিমাপ করা স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বোঝার জন্য বেশি কার্যকর। গবেষণার প্রধান লেখক আয়ুশ ভিসারিয়া এবং তার দল বলছেন, কোমরের পরিমাপ বিএমআই-এর সীমাবদ্ধতা দূর করতে এবং স্থূলতাজনিত স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো দ্রুত শনাক্ত করতে সাহায্য করে। এই গবেষণার ফলাফল জামা নেটওয়ার্ক ওপেন (JAMA Network Open) জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু বিএমআই পরিমাপ করলে অনেক সময় স্থূলতার প্রকৃত ঝুঁকি ধরা পড়ে না। অন্যদিকে, কোমরের মাপ যোগ করলে শরীরের চর্বির মাত্রা আরও নির্ভুলভাবে বোঝা যায়। পোশাকের টাইট হয়ে যাওয়া বা কোমরের মাপ বেড়ে যাওয়াকে শরীরের চর্বি বৃদ্ধির একটি প্রাথমিক সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখছেন গবেষকরা।
গবেষণা পদ্ধতি
রুটগার্স হেলথ গবেষকরা ২০ থেকে ৫৯ বছর বয়সী প্রায় ১,৯০০ জন মার্কিন নাগরিকের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই বিশ্লেষণ করেছেন। তারা স্থূলতা শনাক্তের বিভিন্ন প্রচলিত পদ্ধতির কার্যকারিতা তুলনা করে দেখেছেন যে, অনেক জটিল পদ্ধতির চেয়ে শুধু কোমরের মাপ নেওয়া অনেক বেশি সহজ ও কার্যকর।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
বিএমআই শরীরের গঠনের পার্থক্য বা চর্বি শরীরের ঠিক কোথায় জমা হচ্ছে, তা সঠিকভাবে নির্দেশ করতে পারে না। কিন্তু কোমরের মাপ শরীরের চর্বির বিন্যাস সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেয়, যা ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং নির্দিষ্ট কিছু ক্যান্সারের ঝুঁকি বুঝতে চিকিৎসকদের সহায়তা করে।
ভবিষ্যৎ করণীয়
গবেষকদের মতে, চিকিৎসকদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষায় বিএমআই-এর পাশাপাশি কোমরের মাপ অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। এটি স্থূলতা শনাক্তকরণে একটি সহজ এবং সাশ্রয়ী উপায় হিসেবে রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।