বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, দুর্বল সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বৈশ্বিক বাজারের অস্থিতিশীলতার কারণে দুই দেশের মানুষই খাবারের তালিকায় কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছেন।
বাংলাদেশে জুলাই ২০২৬ মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে ৭.১৬ শতাংশে দাঁড়াতে দেখা গেছে, যা জুনে ছিল ৮.৬০ শতাংশ। তবে মূল্যস্ফীতি কিছুটা ধীর হওয়া মানেই বাজারের দরপতন নয়, বরং আগের উচ্চমূল্যের চাপ এখনো বিদ্যমান। একই অবস্থা পাকিস্তানেও; সেখানে মুরগি, আটা, দুধ ও মাংসের মতো জরুরি পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।
দাম বাড়ার নেপথ্যে কারণ
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি এবং জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি উৎপাদন খরচকে বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া দীর্ঘ সরবরাহ চেইন ও মধ্যস্বত্বভোগীদের আধিপত্য খাদ্যপণ্যকে ভোক্তাদের নাগালের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক বাজারে খাদ্য ও সারের দাম বাড়ার প্রভাবও আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ওপর সরাসরি পড়ছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার মতে, বৈরী আবহাওয়া ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের দাম দীর্ঘ সময় ধরে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।
পুষ্টিতে টান
খাদ্যের দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়ছে পরিবারের খাবারের টেবিলে। বাংলাদেশে সিপিডির গবেষণা অনুযায়ী, দেশের ৬০ শতাংশেরও বেশি পরিবার তাদের আয়ের অর্ধেকই ব্যয়ের পেছনে ব্যয় করে। ফলে খাবারের দাম বাড়লে শিক্ষা, চিকিৎসা ও সঞ্চয়ের খাতে টান পড়ে। পুষ্টিকর খাবারের বদলে মানুষ এখন কম দামি ও কম পুষ্টিকর বিকল্প বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছে।
সমাধানের পথ
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র বাজার অভিযান বা ভর্তুকি দিয়ে এই সংকট সমাধান সম্ভব নয়। দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানো, সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ এবং মজুতদারি রোধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাজারে পর্যাপ্ত খাদ্য থাকাই যথেষ্ট নয়, বরং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে পুষ্টিকর খাবার পৌঁছানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।