যুক্তরাজ্যের প্রিমিয়ার লিগে খেলোয়াড় কেনাবেচার ক্ষেত্রে ২০ মিলিয়ন পাউন্ডের অতিরিক্ত খরচের প্রবণতা বা ‘প্রিমিয়ার লিগ ট্যাক্স’ নিয়ে ইউরোপীয় ক্লাবগুলোর মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল অর্থায়ন বিশেষজ্ঞ কিয়েরান ম্যাগুয়ারের মতে, প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো এখন নিজেদের মধ্যে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ খরচ করে খেলোয়াড় দলভুক্ত করছে, যা ইউরোপের অন্যান্য লিগের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো নিজেদের মধ্যে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে, তা বিদেশ থেকে খেলোয়াড় কেনার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। ৪০ মিলিয়ন পাউন্ড বা তার বেশি মূল্যের ট্রান্সফার ডিলগুলোর সংখ্যা দুই বছরের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ইউরোপের অন্যান্য ক্লাবগুলোর তুলনায় প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বহুগুণ বেশি হওয়ায় তারা এখন নিজস্ব একটি বলয়ের মধ্যে খেলোয়াড় কেনাবেচা করছে।
এই পরিস্থিতি নিয়ে লা লিগার করপোরেট ডিরেক্টর হাভিয়ের গোমেজ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, প্রিমিয়ার লিগের এই লোকসানমুখী মডেল পুরো ফুটবল খাতের খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। পোর্তোর প্রেসিডেন্ট আন্দ্রে ভিলাস-বোয়াস জানান, প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোর বিশাল বাজেটের কারণে তাদের মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবগুলোর পক্ষে মেধাবী খেলোয়াড় ধরে রাখা বা নতুন প্রতিভা খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
ফুটবল অর্থায়ন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রিমিয়ার লিগের নতুন স্কোয়াড কস্ট রেশিও (এসসিআর) নিয়মের কারণে ক্লাবগুলো এখন খেলোয়াড় বিক্রির মুনাফাকে পুনর্নিয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এর ফলে বড় ক্লাবগুলো তাদের আধিপত্য ধরে রাখছে, তবে ইউরোপের অন্যান্য লিগগুলো এই অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিযোগিতার মুখে টিকতে হিমশিম খাচ্ছে।