ইংল্যান্ডের লন্ডনে প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে গ্রীষ্মকালীন দলবদলের বাজারে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল আর্সেনাল। ক্লাবের স্পোর্টিং ডিরেক্টর আন্দ্রে বের্তা এবং কোচ মিকেল আরতেতা ২০ জনের বেশি খেলোয়াড় নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করেছিলেন। রিয়াল মাদ্রিদ, অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদসহ বিভিন্ন ক্লাবের তারকাদের দলে ভেড়ানোর এই উদ্যোগটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল কারণ লিগের অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো তখন পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় ছিল।
দলবদল নিয়ে পর্যালোচনা
নিউ ক্যাসেল ইউনাইটেড থেকে ৭৫ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে ব্রুনো গুইমারেসকে দলে ভেড়ানো আর্সেনালের গ্রীষ্মের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা। এছাড়া রক্ষণভাগে এজরি কনসাকে দলে নিতে ৫১ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করেছে ক্লাবটি। কনসার বহুমুখী দক্ষতা আরতেতার পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে আক্রমণভাগে একজন বিশ্বমানের খেলোয়াড় পাওয়ার লক্ষ্য পূরণ হয়নি। মরগান রজার্সকে পাওয়ার প্রবল ইচ্ছা থাকলেও অ্যাস্টন ভিলার চড়া মূল্যের কারণে সেই চুক্তি সম্ভব হয়নি।
ব্যর্থ ও সফল প্রচেষ্টা
আক্রমণভাগের প্রধান লক্ষ্যগুলোর মধ্যে ছিল ভিনিসিয়াস জুনিয়র এবং জুলিয়ান আলভারেস। ভিনিসিয়াসকে দলে নিতে আর্সেনাল বড় অঙ্কের প্রস্তাব দিতে প্রস্তুত থাকলেও রিয়াল মাদ্রিদেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। অন্যদিকে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের আলভারেসকে নিয়েও ক্লাবটির দীর্ঘ আগ্রহ ছিল, যা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ক্লাবটি এখন দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব ও অর্থনৈতিক নিয়ম মেনে খেলোয়াড় বেচাকেনার দিকে নজর দিচ্ছে। গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিকে ৬০ মিলিয়ন পাউন্ডে আল-হিলালে বিক্রি করার মতো বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে আর্সেনাল। গত এক বছরে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করার পর, নতুন আসা খেলোয়াড়দের বয়স এবং দলের গড় বয়স বেড়ে যাওয়া নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে ক্লাব কর্তৃপক্ষ মনে করছে, গুয়িমারেস ও কনসার মতো অভিজ্ঞদের অন্তর্ভুক্তি দীর্ঘমেয়াদে দলের জন্য সুফল বয়ে আনবে।