যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে অনুষ্ঠিত ব্ল্যাক হ্যাট নিরাপত্তা সম্মেলনে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ জেমস কেটল জানিয়েছেন, বর্তমান সময়ে হ্যাকিংয়ের ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এজেন্টিক এআইয়ের ভূমিকা বাড়লেও, মানুষের সহায়তা ছাড়া এটি নতুন ও কার্যকর আক্রমণ কৌশল বের করতে পুরোপুরি সক্ষম নয়। কেটলের গবেষণার মূল বিষয় হলো, এআই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো নতুন হ্যাকিং পদ্ধতি উদ্ভাবন করতে পারে কি না এবং সাইবার নিরাপত্তায় এর সীমাবদ্ধতা কতটুকু।
গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, এআই এখন সফটওয়্যারের দুর্বলতা খুঁজে বের করা বা সেগুলো ঠিক করার ক্ষেত্রে অনেক দ্রুত ও কার্যকর ভূমিকা রাখছে। তবে কেটলের মতে, পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন কোনো হ্যাকিং কৌশল তৈরির ক্ষেত্রে এআইয়ের সক্ষমতা বেশ সীমিত। মানুষ যখন নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ও অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে এআইকে সহযোগিতা করে, কেবল তখনই এটি অত্যন্ত শক্তিশালী পার্টনার হিসেবে কাজ করতে পারে।
কেটল তার গবেষণায় ‘শেয়ার্ড-পার্সার কনফিউশন’ (Shared-Parser Confusion) নামে নতুন একটি দুর্বলতা চিহ্নিত করেছেন। এটি ওয়েব সার্ভারে ব্যবহৃত এমন এক প্রযুক্তিগত ত্রুটি যা ওয়েবসাইট বা সার্ভারের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কেটল জানান, এআইয়ের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনি এই নতুন দুর্বলতাটি খুঁজে পেয়েছেন, যা তিনি নিজে একা কখনো করতে পারতেন না।
কেটল ব্যাখ্যা করেন যে, গবেষণার সময় তিনি ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রোপিকের এআই মডেলগুলো ব্যবহার করেছিলেন। শুরুতে এআই সিস্টেমগুলো বিদ্যমান গবেষণাকেই নতুন বলে দাবি করার চেষ্টা করছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি এআইয়ের জন্য নির্দিষ্ট পদ্ধতি ও প্যারামিটার নির্ধারণ করে দিলে সিস্টেমটি দ্রুত ফলাফল দিতে শুরু করে। এটি গবেষকের নিজের কাজ করার গতির চেয়েও অনেক বেশি কার্যকর ছিল।
পরিশেষে, কেটল জোর দিয়ে বলেন যে এআই পুরোপুরি মানুষের বিকল্প নয়। হ্যাকিং বা নিরাপত্তার মতো জটিল ক্ষেত্রে মানুষের মূল্যায়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ এখনো অপরিহার্য। এআই কেবল গবেষণার গতি বাড়াতে এবং হাইপোথিসিস তৈরিতে সহায়তা করতে পারে, যার চূড়ান্ত যাচাইকরণ মানুষকেই করতে হয়।