যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে দেশটির স্বাস্থ্য সংস্থা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা সিডিসির পরিচালক হিসেবে ড. এরিকা শোয়ার্টজের নাম নিশ্চিত করেছে মার্কিন সিনেট। প্রায় এক বছর আগে টিকা নীতি নিয়ে স্বাস্থ্য সচিব রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়রের সঙ্গে বিরোধের জেরে আগের পরিচালককে বরখাস্ত করার পর পদটি শূন্য ছিল। ৫১-৪৪ ভোটে তার এই নিয়োগ অনুমোদিত হয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সিডিসি নানামুখী চাপের মুখে রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে সংস্থার বহু কর্মী পদত্যাগ করেছেন এবং ব্যাপক ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে হাম, সাইক্লোস্পোরিয়াস এবং কঙ্গো ও উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়া ইবোলার মতো প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় কাজ করছে সংস্থাটি।
ড. শোয়ার্টজের নিয়োগ নিয়ে সিনেটে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি তার সক্ষমতার ওপর আস্থা প্রকাশ করে ভোট দিলেও ডেমোক্র্যাট ও স্বতন্ত্র অনেক সদস্যের উদ্বেগ ছিল। তাদের শঙ্কা, স্বাস্থ্য সচিব রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়রের রাজনৈতিক প্রভাব বা ভুল তথ্যের সামনে ড. শোয়ার্টজ বিজ্ঞানের ভিত্তিতে নেওয়া সিদ্ধান্ত বজায় রাখতে পারবেন কি না।
সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স তার যোগ্যতার প্রশংসা করলেও জানিয়েছেন, তিনি কেনেডির ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তার সন্দেহ রয়েছে। তবে শোয়ার্টজ তার শুনানি পর্বে দৃঢ়ভাবে জানিয়েছিলেন, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তার দায়বদ্ধতা পবিত্র এবং তিনি প্রমাণভিত্তিক নির্দেশনাই প্রদান করবেন।
সিডিসির সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা ড. দিমিত্র দাসকালাকিস মনে করেন, শোয়ার্টজের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। কেবল প্রশাসনিক কাজ নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের মূল লক্ষ্য ও বিজ্ঞানের মর্যাদা রক্ষা করাই হবে তার প্রধান কাজ। সিডিসির প্রাক্তণ পরিচালক ড. ম্যান্ডি কোহেন পরামর্শ দিয়েছেন যে, অ্যাটলান্টায় সিডিসি সদর দপ্তরে কর্মীদের মনোবল ফেরানো, কংগ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা এবং জনগণের কাছে স্বচ্ছ তথ্য পৌঁছে দেওয়াই হবে তার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।