যুক্তরাজ্যের জার্সি দ্বীপে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সংকটে পড়েছেন টাউ ট্রাক ব্যবসায়ীরা, যার ফলে অলিভার দু ফু নামক এক ব্যবসায়ী ৯ থেকে ১১ হাজার পাউন্ড ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। ব্যবসায়িক ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাওয়া এই উদ্যোক্তা জানান, তার ট্রাকগুলোতে ৮০ থেকে ১২০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয় এবং প্রতি দুই দিন পরপর জ্বালানি নিতে হয়, যা মুনাফায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
জ্বালানি শুল্কের প্রভাব
বর্তমানে জার্সিতে প্রতি লিটার জ্বালানিতে প্রায় ৬৫ পেনি শুল্ক ধার্য করা হয়। এই শুল্ক ১০ পেনি কমানোর একটি প্রস্তাব আনা হলেও পরবর্তীতে তা প্রত্যাহার করা হয়। অলিভার দু ফু জানিয়েছেন, ব্যবসায়ীদের খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে অন্তত ৩০ থেকে ৫০ পেনি পর্যন্ত শুল্ক কমানো প্রয়োজন। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত তিনি বর্ধিত ব্যয় নিজে বহন করলেও অদূর ভবিষ্যতে গ্রাহকদের ওপর এর দায় চাপানো ছাড়া উপায় থাকবে না।
সরকারের অবস্থান
জার্সির ট্রেজারি মন্ত্রী অ্যালান ম্যাকলিন জ্বালানি শুল্ক কমানোর বিষয়টিকে একটি অকার্যকর উপায় হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, এ ধরনের পদক্ষেপে ধনীরাই বেশি সুবিধা পায়। তবে সরকার আসন্ন বাজেটে জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
সাধারণের ওপর প্রভাব
জার্সি কনজ্যুমার কাউন্সিলের কার্ল ওয়াকার সতর্ক করে বলেছেন, জ্বালানির উচ্চমূল্য শুধু গাড়ি চালকদের ওপর নয়, বরং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়ও প্রভাব ফেলছে। যেহেতু দ্বীপের ৯৭ শতাংশ পণ্য বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয় এবং সেগুলো সরবরাহের জন্য জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হয়, তাই সব ধরনের পণ্যের দামই সাধারণ মানুষের পকেট থেকে বেশি অর্থ খরচ করাবে।
বিশ্ববাজারের অস্থিরতা
এটিএফ ফুয়েলস-এর পরিচালক জন বেস্ট জানান, পাইকারি জ্বালানির দাম গত চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। যদিও জার্সি দ্বীপ মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি থেকে ভৌগোলিকভাবে দূরে, তবুও বিশ্ববাজারের জ্বালানি সংকট থেকে তারা মুক্ত থাকতে পারছে না। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিরোধের জেরে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ও উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটায় এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্থানীয় বাজারে।