যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিভাগগুলোতে নতুন ‘পোর্টফোলিও অ্যাকুইজিশন এক্সিকিউটিভ’ বা পিএই (PAE) পদ প্রবর্তনের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ক্রয় প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সংস্কারের সফলতার জন্য চুক্তি কর্মকর্তাদের কাজের পরিবেশে ঝুঁকি কমানো এবং অর্জিত ফলাফলের সঠিক পরিমাপ করা জরুরি বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষক টিমোথি ডব্লিউ কুক।
প্রতিরক্ষা খাতে গত তিন দশক ধরে চলা সংস্কারের ধারায় পিএই পদটি আইনত নতুন দায়িত্ব নিয়ে এসেছে। আগের পদ্ধতিগুলোতে কেবল নির্দিষ্ট প্রজেক্টের নিয়ম মানার ওপর জোর দেওয়া হতো, কিন্তু বর্তমান নিয়মে একজন কর্মকর্তাকে পুরো পোর্টফোলিওর সক্ষমতা অর্জনের দায়ভার নিতে হবে।
চুক্তি কর্মকর্তাদের বর্তমান ঝুঁকির বিষয়ে বিশ্লেষক কুক বলেন, কর্মকর্তারা বর্তমানে নিয়ম মেনে কাজ করতেই বেশি আগ্রহী, কারণ কোনো ভুল হলে তাদের ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার ঝুঁকির মুখে পড়ে। পিএই-এর মূল কাজ হবে কর্মকর্তাদের জন্য ‘টপ কাভার’ বা প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা, যাতে তারা নিয়ম রক্ষার চেয়ে মিশন সফল করার কাজে বেশি মনোযোগ দিতে পারেন।
এই সংস্কার সফল করার জন্য দুটি প্রধান পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। প্রথমত, কোনো কর্মকর্তা যদি নিয়মের মধ্যে থেকে কোনো সাহসী বা নমনীয় পদক্ষেপ নেন এবং তাতে কোনো আইনি জটিলতা বা অডিট তৈরি হয়, তবে পিএই কর্তৃপক্ষকে তার পাশে দাঁড়িয়ে আইনি সুরক্ষা দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, কেবল প্রক্রিয়ার ওপর নজর না রেখে মিশন কতটা সফল হচ্ছে, তা পরিমাপের জন্য নতুন মেট্রিক্স বা সূচক চালু করতে হবে।
যদি কেবল নতুন সূচক চালু করা হয় কিন্তু কর্মকর্তাদের সুরক্ষা না দেওয়া হয়, তবে কাজের ধরন বদলাবে না। আবার সুরক্ষা দিলেও যদি ফলাফল পরিমাপ না করা হয়, তবে সংস্কার স্থায়ী হবে না। সিমুলেশন বলছে, এই দুটি পদক্ষেপ একসঙ্গে নিলে তবেই দীর্ঘদিনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব।
প্রতিরক্ষা ক্রয় ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করতে পিএই-দের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু প্রজেক্টকে পরীক্ষামূলকভাবে এই নতুন নিয়মের আওতায় এনে সাফল্যের উদাহরণ তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে দিনশেষে এই সংস্কারের সফলতা নির্ভর করছে বর্তমান প্রজন্মের নেতৃত্ব কতটা দৃঢ়তার সঙ্গে এই নতুন ধারাকে এগিয়ে নেয় তার ওপর।