যুক্তরাজ্যের কেন্টের জিলিংহামের মেডওয়ে মেরিটাইম হাসপাতালের কর্মীরা উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে এখন বারে বাড়তি কাজ করছেন। হাসপাতালের পার্কিং ফি বৃদ্ধি এবং বেতন কমিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে এবং পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে তারা এই পথ বেছে নিয়েছেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
হাসপাতালের কর্মীরা জানান, আগস্ট মাসের শুরু থেকে দৈনিক পার্কিংয়ের খরচ ৯ দশমিক ২০ পাউন্ড থেকে বাড়িয়ে ১৫ পাউন্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি মে মাসে অতিরিক্ত শিফটের বেতন ২০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। একজন ধাত্রী (মিডওয়াইফ) নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, যাতায়াত খরচ বাবদ তাকে মাসে ২৫০ পাউন্ড ব্যয় করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহকর্মীদের অনেকে বাধ্য হয়ে স্থানীয় বারে কাজ করছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, অত্যন্ত দক্ষ পেশাদার হয়েও বারে কাজ করে বেশি আয় করা সম্ভব হচ্ছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।
মেডওয়ে এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান নির্বাহী শিভন ক্যালানান বলেন, সব কর্মীর জন্য বিনামূল্যে পার্কিং সুবিধা দেওয়া সম্ভব নয়। তবে যোগ্য কর্মীরা পার্কিং পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তিনি আরও দাবি করেন, পার্কিং থেকে প্রাপ্ত আয় হাসপাতালের রক্ষণাবেক্ষণ ও রোগীর সেবার কাজে ব্যয় করা হয়। এছাড়া কর্মীদের জন্য বিনামূল্যে অফ-সাইট পার্কিং ও শাটল বাস সেবা চালু রয়েছে।
হাসপাতালের এই সংকট ও সিদ্ধান্তের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন মেডওয়ে কাউন্সিলের ডেপুটি লিডার তেরেসা মারে। তিনি জানান, হাসপাতালের ৪৭ মিলিয়ন পাউন্ড ঘাটতি রয়েছে, যা তাদের সিদ্ধান্তের ওপর প্রভাব ফেলছে। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতিতে কর্মীদের ওপর চাপ বাড়ছে। এদিকে ঘাটতি মেটাতে হাসপাতালের নেয়া কঠোর ব্যবস্থা এবং কর্মী সংকটের কারণে মানসম্মত সেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।