ঢাকাFriday , 7 August 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও বিচার
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. খেলাধুলা
  7. চাকরি
  8. জাতীয়
  9. ধর্মীয় সম্প্রীতি
  10. পরিবেশ ও কৃষি
  11. প্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. বিশেষ প্রতিবেদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সব খবর

হঠাৎ দিক পরিবর্তন করল পৃথিবীর গলিত কেন্দ্র, কারণ নিয়ে ধোঁয়াশায় বিজ্ঞানীরা


August 7, 2026 6:00 pm
Link Copied!

ইউরোপের প্যারিসসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর অভ্যন্তরের এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন, যেখানে পৃথিবীর গভীরে থাকা গলিত লোহার কেন্দ্র হঠাৎ তার দিক পরিবর্তন করেছে। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার (ইএসএ) গবেষণায় উঠে এসেছে যে, প্রশান্ত মহাসাগরের প্রায় ৩০০০ কিলোমিটার নিচে অবস্থিত এই বিশাল এলাকাটি এতদিন সাধারণত পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হলেও, ২০১০ সাল থেকে এটি আকস্মিকভাবে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হতে শুরু করে। এই ঘটনাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরির প্রধান কারিগর হলো এই গলিত লোহার স্রোত।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, প্রশান্ত মহাসাগরের নিচে ঘটে যাওয়া এই পরিবর্তনটি আগের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি দ্রুত এবং জটিল। দীর্ঘসময় ধরে বিজ্ঞানীরা মনে করতেন, পৃথিবীর বহিস্থ কেন্দ্রের এই স্রোতপ্রবাহ বেশ স্থিতিশীল। কিন্তু স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও ভূ-তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেখা গেছে, ২০১০ সালে এই স্রোতের দিক পরিবর্তনের ফলে পৃথিবী তার চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরির প্রক্রিয়ায় এক রহস্যময় পরিবর্তনের মুখোমুখি হয়েছে।

ইউনিভার্সিটি অব এডিনবার্গের স্কুল অব জিওসায়েন্সেসের গবেষক ফ্রেডেরিক ডাহল ম্যাডসেন জানিয়েছেন, এই ঘটনাটি ভূ-অভ্যন্তরের গভীরতম স্তরের আচরণের বিষয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এটি কোনো সাময়িক বিচ্যুতি নাকি কোনো দীর্ঘমেয়াদী প্রাকৃতিক চক্রের অংশ, তা নিয়ে বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। স্যাটেলাইট ডাটা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২০ সালের পর থেকে পূর্বমুখী এই শক্তিশালী স্রোত কিছুটা দুর্বল হতে শুরু করেছে।

কেন এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ?
পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র আমাদের গ্রহকে সূর্যের ক্ষতিকর বিকিরণ থেকে রক্ষা করে। যদিও কেন্দ্রস্থলের এই পরিবর্তন ভূপৃষ্ঠের মানুষের জন্য কোনো সরাসরি হুমকি নয়, তবে এটি পৃথিবীর সামগ্রিক কার্যপদ্ধতি বোঝার জন্য অপরিহার্য। এই চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তনের ফলে নেভিগেশন সিস্টেম এবং মহাকাশ গবেষণায় ব্যবহৃত প্রযুক্তির ওপর প্রভাব পড়তে পারে।

ইএসএ-এর সোয়ার্ম মিশনের ব্যবস্থাপক আনজা স্ট্রম জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পাওয়া উচ্চ-নির্ভুল তথ্য ছাড়া এই সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলো ধরা সম্ভব হতো না। বর্তমানে বিজ্ঞানীরা এই ঘটনার সাথে পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ কোরের পরিবর্তনের কোনো সংযোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। পৃথিবী ও এর গভীরে থাকা জটিল ডাইনামিক প্রক্রিয়াগুলো আগের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি পরিবর্তনশীল ও রহস্যময় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।