বাংলাদেশের সাভারের আশুলিয়ায় জুলাই আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের ‘জুলাই জঙ্গি’ ও ‘জুলাই মুরতাদ’ বলে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শারাফাত শারিক রোহানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই বিশ্বজিৎ দেবনাথ।
তদন্তের প্রেক্ষাপট
আশুলিয়া থানার এসআই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মানষ ভদ্র সাইবার সুরক্ষা আইনে দায়ের করা মামলায় রোহানকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক পোস্টের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি ও অস্থিরতা ছড়ানোর প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এছাড়া আসামির স্থায়ী ঠিকানা ভিন্ন জেলায় হওয়ায় পরিচয় যাচাইয়ের জটিলতা এবং জামিন পেলে তিনি পলাতক হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানির পর আদালত আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার বিবরণ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (নিরাপত্তা) মোহাম্মদ আবু সৈয়দ বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ৫ আগস্ট ভোরে রোহান নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে উসকানিমূলক স্ট্যাটাস দেন। এর জেরে শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে হল ছাত্র সংসদের নেতারা তাকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেন। উসকানিমূলক তথ্য প্রচার ও সহিংসতার উসকানি দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।