আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার রোমাঞ্চকর ম্যাচে ৩-২ ব্যবধানে আর্জেন্টিনা জয়ী হলেও রেফারির সিদ্ধান্ত ও মাঠের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গত ৮ জুলাই নিউজ ১৮-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ম্যাচ চলাকালে মিশরের কোচ হোসাম হাসান বর্ণবাদবিরোধী বিশেষ সংকেত প্রদর্শন করলে তাকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়।
ম্যাচ শেষে মিশরের পক্ষ থেকে গোল বাতিল, পেনাল্টি না দেওয়া এবং ম্যাচ পাতানোর মতো গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, টাচলাইনে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের সময় লিওনেল মেসির সঙ্গে মিশরের কোচ হোসাম হাসানের কিছু একটা নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে।
মুহূর্তের মধ্যেই হাসান তার দুই হাত আড়াআড়ি করে ‘এক্স’ আকৃতির একটি ভঙ্গি করেন। ফিফার প্রটোকল অনুযায়ী, বর্ণবাদী আচরণের শিকার হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এই সংকেত প্রদর্শন করতে পারেন।
মেসি হাসানকে ঠিক কী বলেছিলেন, তা নিয়ে কোনো অডিও বা আনুষ্ঠানিক তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। এই ভঙ্গিটি সরাসরি মেসি, আর্জেন্টিনার ডাগআউট নাকি দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে ছিল, তা নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
এ ঘটনার পরপরই ম্যাচের রেফারি হোসাম হাসানকে হলুদ কার্ড দেখান। তবে ফিফার নিয়মানুযায়ী এই সংকেত দেওয়ার জন্য কাউকে হলুদ কার্ড দেখানোর কোনো বিধান নেই বলে জানা গেছে।
ফিফার বর্ণবাদবিরোধী প্রটোকল অনুযায়ী নিম্নোক্ত বিষয়গুলো নিশ্চিত করা হয়েছে:
• ২০২৪ সালে ফিফা ‘নো রেসিজম’ বা বর্ণবাদবিরোধী বিশেষ ভঙ্গিটি চালু করে।
• খেলোয়াড়, রেফারি বা কর্মকর্তারা বর্ণবাদী আচরণ শনাক্ত করলে এই সংকেত দিতে পারেন।
• এই সংকেত পাওয়ার পর রেফারি খেলা থামিয়ে তদন্ত করবেন।
• বর্ণবাদী আচরণ প্রমাণিত হলে খেলা স্থগিত বা পুরোপুরি বাতিল করার বিধান রয়েছে।
হোসাম হাসানকে কেন কার্ড দেখানো হলো এবং তিনি ঠিক কোন ঘটনার প্রতিবাদে এই সংকেত দিয়েছিলেন, তা নিয়ে ফিফা এখনো কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। এছাড়া এই সংকেত পাওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী খেলা থামানো হয়নি বলেও দেখা গেছে।
ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় হোসাম হাসান বলেন,
“আমার দল অবিচারের শিকার হয়েছে। মেসি ও আর্জেন্টিনাকে টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখার একটি প্রচেষ্টা থাকতে পারে। আসর থেকে বিদায় নেওয়ার পর আমি এবারের বিশ্বকাপের আর কোনো ম্যাচ দেখব না।”
এই বিতর্কের কারণে আর্জেন্টিনার জয় কেবল তাদের পারফরম্যান্সের জন্য নয়, বরং মাঠের বাইরের অনাকাঙ্ক্ষিত ও রহস্যময় ঘটনাগুলোর জন্যও তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ক্রীড়া মহলে এখন নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।