যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা (ইপিএ) এক ঘোষণায় জানিয়েছে যে, দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের ওপর অবশিষ্ট সব ধরনের বিধিনিষেধ বাতিল করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের প্রসার ঘটানো এবং বিদ্যুৎ-নির্ভর ডেটা সেন্টারগুলোর জন্য পথ সহজ করা হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এটি বড় ধরনের পিছিয়ে যাওয়া বলে মনে করছেন পরিবেশ ও ভোক্তা অধিকার কর্মীরা।
ইপিএ জানিয়েছে, তারা জো বাইডেন প্রশাসনের সময়ে আরোপিত গ্রিনহাউস গ্যাস সংক্রান্ত বিধিনিষেধগুলো চূড়ান্তভাবে বাতিল করছে। সংস্থাটির দাবি, এই পদক্ষেপের ফলে খরচ সাশ্রয় হবে। তবে এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিবেশ আরও দূষিত হবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সমালোচকরা। বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং দেশীয় উৎপাদন শিল্পের প্রসারে যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুতের চাহিদা ব্যাপক হারে বাড়ছে।
উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া
মমস ক্লিন এয়ার ফোর্সের পরিচালক ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা ডমিনিক ব্রাউনিং এক বিবৃতিতে জানান, এই নিয়ম বাতিলের ফলে জনস্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি বলেন, কার্বন নিঃসরণ সীমিত না করলে শিশুদের হাঁপানি ও হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়বে। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন খরচ ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বৃদ্ধি পাবে।
ইপিএ প্রশাসক লি জেলডিন জানিয়েছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের এআই রাজধানীতে পরিণত করতে চান। আর সেই লক্ষ্যেই জ্বালানি-নিবিড় ডেটা সেন্টারগুলোর জন্য পরিবেশগত বিধিনিষেধ শিথিল করা হচ্ছে। সংস্থাটি দাবি করছে, গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ তাদের আওতাভুক্ত নয়, কারণ এর প্রভাব বিশ্বব্যাপী এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর এর সরাসরি প্রভাব নির্ণয় করা কঠিন।
আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনা
এই প্রস্তাবটি ৪৫ দিন জনমত যাচাইয়ের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তবে সিয়েরা ক্লাবের মতো পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। সিয়েরা ক্লাবের প্রধান কর্মসূচি কর্মকর্তা হোলি বেন্ডার বলেছেন, যখন দাবানল ও বন্যার মতো দুর্যোগে মানুষ আক্রান্ত, তখন ট্রাম্প প্রশাসন জীবাশ্ম জ্বালানি কোম্পানিগুলোকে দূষণ করার লাইসেন্স দিচ্ছে।