ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুথিদের চালানো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৫৮ জন সরকারি সেনা নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ৬ আগস্ট এই হামলার ঘটনা ঘটে। ইয়েমেনের সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে চালানো হামলাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম প্রাণঘাতী। ইয়েমেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই হামলার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।
হামলার বিবরণ
বৃহস্পতিবার সরকারি বাহিনীর বিভিন্ন ক্যাম্প ও অবস্থান লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে এই হামলা চালানো হয়। হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, সৌদি আরবের সহায়তায় সরকারি বাহিনী তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর প্রতিক্রিয়ায় এই হামলা চালানো হয়েছে। শুরুতে নিহতের সংখ্যা ৩৮ জন হিসেবে জানানো হলেও পরবর্তীতে তা বেড়ে ৫৮ জনে দাঁড়িয়েছে।
সৌদি সীমান্তে প্রভাব
এই হামলার প্রভাব সৌদি আরবের সীমান্ত এলাকাতেও পড়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান প্রদেশে হুথিদের হামলায় ১১ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে সৌদি, ইয়েমেনি, মিসরীয় ও পাকিস্তানি নাগরিক রয়েছেন। আহতদের মধ্যে চার বছর বয়সী এক শিশুও আছে। হুথিরা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করে বেসামরিক এলাকায় নির্বিচারে হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা
একজন জ্যেষ্ঠ সৌদি কর্মকর্তা সতর্ক করেছেন যে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের তত্ত্বাবধানে থাকা হুথি ও ইরাকের কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো, বন্দর ও বিমানবন্দরে সমন্বিত হামলা চালাতে পারে। তিনি আরও জানান, এই হুমকির মুখে রিয়াদ প্রস্তুত রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ মিত্র দেশগুলোর সাথে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করা হয়েছে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়েও আলোচনা চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।