ঢাকাFriday , 2 October 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও বিচার
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. খেলাধুলা
  7. চাকরি
  8. জাতীয়
  9. ধর্মীয় সম্প্রীতি
  10. পরিবেশ ও কৃষি
  11. প্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. বিশেষ প্রতিবেদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সব খবর

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পারমাণবিক বাঙ্কার সুইজারল্যান্ডে

International Desk
August 9, 2026 8:45 am
Link Copied!

সুইজারল্যান্ডের লুসার্ন শহরে অবস্থিত সনেনবার্গ পারমাণবিক বাঙ্কারটি তার বিশাল অবকাঠামোর জন্য পরিচিত। শীতযুদ্ধের সময় নির্মিত এই বাঙ্কারটি ২০ হাজার মানুষের আশ্রয়স্থল হিসেবে ডিজাইন করা হয়েছিল। দেশটির সিভিল ডিফেন্স গাইড জোরা শেলবার্ট জানান, সেই সময়ে শহরের প্রতি তিনজনের একজন এই বাঙ্কারে আশ্রয় নেওয়ার কথা ছিল।

শীতযুদ্ধের সময় সুইজারল্যান্ডের নীতি নির্ধারকরা মনে করেছিলেন, নিরপেক্ষ দেশ হিসেবে তারা সরাসরি পারমাণবিক আক্রমণের শিকার না হলেও প্রতিবেশী দেশগুলোর তেজস্ক্রিয়তার কবলে পড়তে পারে। সেই ঝুঁকি মোকাবিলায় বাঙ্কারগুলো তৈরি করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও বর্তমানে ইউক্রেন বা ইসরায়েলের মতো সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে বাঙ্কারগুলো সাময়িক আশ্রয়ের বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে বলে মনে করা হয়।

বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ৩ লক্ষ ৭০ হাজার পারমাণবিক বাঙ্কার রয়েছে। ২০১১ সালে জাপানের ফুকুশিমা দাইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুর্ঘটনার পর সুইস পার্লামেন্ট এই বাঙ্কার ব্যবস্থা বাতিল না করার পক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়। এটি এখন জাতীয় জরুরি প্রয়োজনে একটি কৌশলগত সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়।

সুইজারল্যান্ডের আইন অনুযায়ী, প্রতিটি আবাসিক ভবনে বাঙ্কার নির্মাণ বাধ্যতামূলক। এর বিকল্প হিসেবে ডেভেলপারদের রাষ্ট্রীয় বাঙ্কারের জন্য অর্থ প্রদান করতে হয়। এছাড়া নাগরিকদের বাঙ্কার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ১,৭০০ থেকে ৩,৫০০ ডলার পর্যন্ত ফি দিতে হয়। স্বাভাবিক সময়ে এগুলো ওয়াইন সেলার বা গুদামঘর হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

ইতিহাসের অধ্যাপক সিলভিয়া বার্জার জিয়াউদ্দিনের মতে, এই বাঙ্কারগুলো সুইজারল্যান্ডের ঐতিহ্যের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটির স্কুলগুলোতে শিশুদের সিভিল ডিফেন্স নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যেখানে তারা বাঙ্কারের নিরাপত্তা ও উপযোগিতা সম্পর্কে শেখে। যদিও সনেনবার্গ বাঙ্কারের ধারণক্ষমতা ২০০২ সালে ২০ হাজার থেকে কমিয়ে ২ হাজারে নামিয়ে আনা হয়েছে, তবুও সরকার প্রতি বছর এই নেটওয়ার্কের পেছনে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ব্যয় করে চলেছে। এটি কখনও মূল উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত না হলেও সম্ভাব্য বিপর্যয়ের কথা মাথায় রেখে সুইজারল্যান্ড তার এই সুরক্ষা ব্যবস্থা অক্ষুণ্ণ রেখেছে।