যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির প্রসারের পরিপ্রেক্ষিতে ভেনেজুয়েলা, কিউবা এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে আসা অভিবাসীরা এই মতাদর্শের ভয়াবহতা নিয়ে সতর্কতা উচ্চারণ করেছেন। তারা জানিয়েছেন, সমাজতান্ত্রিক সরকারগুলো সাধারণ মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে এবং ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতে এই নীতি ব্যবহার করে থাকে। ফক্স নিউজ ডিজিটালের সাথে আলাপকালে এসব অভিবাসী দাবি করেন, রাষ্ট্র যখন সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ নেয়, তখন তা নাগরিকদের কাছ থেকে সবকিছু কেড়ে নেওয়ার পথ প্রশস্ত করে।
ভেনেজুয়েলা থেকে ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো ইমানুয়েল রিনকন বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। তার মতে, সমাজতন্ত্রের মূল লক্ষ্য হলো মানুষের কষ্টার্জিত সম্পদ কেড়ে নিয়ে যারা কাজ করে না তাদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া। তিনি ভেনেজুয়েলায় সমাজতান্ত্রিক শাসনামলে জ্বালানি তেল বা নিত্যপণ্য কেনার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়ানোর তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। রিনকনের ভাষ্যমতে, অদক্ষ প্রশাসনের কারণে দেশটিতে খাদ্য ও জ্বালানির চরম সংকট তৈরি হয়েছিল।
কিউবা থেকে পালিয়ে আসা ইলিয়ার আভিলা বলেন, যারা একনায়কতন্ত্র থেকে মুক্তি পেয়ে গণতান্ত্রিক দেশে এসেছেন, তারা আমেরিকার স্বাধীনতার মূল্য ভালো বোঝেন। তিনি সমাজতন্ত্রের সমর্থকদের উদ্দেশে একটি কাল্পনিক উদাহরণ দিয়ে বলেন, যদি কোনো শাসক বিরোধী দল নিষিদ্ধ করে এবং সংবাদপত্রের মুখ বন্ধ করে দেয়, তবে সাধারণ মানুষ তা কখনোই মেনে নেবে না।
সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে ১৯৮১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আসা জিন মেইন মনে করেন, সমাজতন্ত্রের মাধ্যমে ভেতর থেকে শক্তিশালী রাষ্ট্রকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। তিনি আরও বলেন, মানুষ যখন সরকারের কাছ থেকে বিনামূল্যে সব পাওয়ার আশা করে, তখন মনে রাখা উচিত যে সরকার যা দিতে পারে, তা কেড়ে নেওয়ার ক্ষমতাও তাদের থাকে। এই অভিবাসীরা মনে করেন, আমেরিকার বর্তমান গণতান্ত্রিক কাঠামো ধ্বংস করার জন্য সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শ একটি কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।