যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে নির্মাণাধীন ডেটা সেন্টারগুলো থেকে প্রতি বছর যে পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হবে, তা ২৪ মিলিয়ন গ্যাসচালিত গাড়ির সমান। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে, অ্যামাজন, গুগল, মেটা ও মাইক্রোসফটের নির্মাণাধীন ৬০টি ডেটা সেন্টার পুরোপুরি চালু হলে বছরে প্রায় ১০ কোটি ১৫ লাখ টন কার্বন ডাই অক্সাইড বায়ুমণ্ডলে মিশবে। এই পরিমাণটি ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যুৎ খাতের মোট নিঃসরণের প্রায় ৭ শতাংশের সমতুল্য।
প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এই ডেটা সেন্টারগুলো তৈরি করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই নিঃসরণ ২৭টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বার্ষিক নিঃসরণের সমান। এআই অবকাঠামোর বিশাল চাহিদা এবং বর্তমানে জলবায়ু সংক্রান্ত কঠোর নিয়মকানুনের শিথিলতার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
অ্যামাজন, মাইক্রোসফট ও অ্যালফাবেটের মতো বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো কয়েক বছর আগে কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও বর্তমানে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। ডেটা সেন্টার নির্মাণ ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় গত এক বছরে এই কোম্পানিগুলোর নিঃসরণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এখন দ্রুত চাহিদা মেটাতে জীবাশ্ম জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে। বর্তমানে এই ৬০টি ডেটা সেন্টার প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অপারেটরদের মধ্যে তিন-চতুর্থাংশই নতুন করে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। এছাড়া কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর অবসরের সময়সীমাও পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা পরিবেশের ওপর বাড়তি চাপের সৃষ্টি করছে।