নেদারল্যান্ডসভিত্তিক কোম্পানি ফেয়ারফোন তাদের পরিবেশবান্ধব এবং সহজে মেরামতযোগ্য স্মার্টফোন মার্কিন বাজারে নিয়ে এসেছে। কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেমন্ড ভ্যান এক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। প্রযুক্তি বাজারে আধিপত্য বিস্তারকারী বড় ব্র্যান্ডগুলোর বাইরে গ্রাহকদের জন্য একটি টেকসই বিকল্প তৈরির লক্ষ্য নিয়ে এই যাত্রা শুরু হয়েছে, যা বর্তমান মার্কিন স্মার্টফোন বাজারে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ফেয়ারফোনের নতুন মডেল জেন ৬ প্লাসে ১২ জিবি র্যাম এবং স্ন্যাপড্রাগন ৭এস জেন ৪ প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে। ফোনটির অন্যতম বিশেষত্ব হলো এর মেরামতযোগ্যতা। আইফিক্সিট-এর পক্ষ থেকে ফোনটিকে ১০ এর মধ্যে ১০ রেটিং দেওয়া হয়েছে। ব্যবহারকারীরা নিজেরাই এর ১২টি মডুলার অংশ পরিবর্তন করতে পারবেন। যেমন, একটি ডিসপ্লে পরিবর্তনের খরচ ৯০ ডলার, ইউএসবি-সি পোর্ট ২০ ডলার এবং ব্যাটারি ৪০ ডলার। ফোনটির সাথে একটি স্ক্রু-ড্রাইভারও দেওয়া হয়।
কোম্পানিটি তাদের যন্ত্রাংশ তৈরিতে ৫০ শতাংশের বেশি ফেয়ার-ট্রেড বা রিসাইকেল করা উপাদান ব্যবহার করে। এছাড়া কারখানা শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের বিষয়টিও তাদের উৎপাদন প্রক্রিয়ার অংশ। স্মার্টফোনটি বর্তমানে আমাজন এবং ফেয়ারফোনের ওয়েবসাইটে ৬৫০ ডলারে পাওয়া যাচ্ছে এবং এটি টি-মোবাইল ও এটিঅ্যান্ডটি নেটওয়ার্কে কার্যকর।
ফেয়ারফোনের সিইও রেমন্ড ভ্যান এক জানান, তারা মার্কিন বাজারে বড় ক্যারিয়ারগুলোর সাথে যুক্ত হওয়ার জন্য আলোচনা করছেন। বর্তমানে অ্যাপল ও স্যামসাং-এর মতো কোম্পানিগুলোর দ্বৈত আধিপত্যের বাজারে ফেয়ারফোন গ্রাহকদের জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী বিনিয়োগের সুযোগ করে দিচ্ছে। ৫ বছরের ওয়ারেন্টি এবং ২০৩৩ সাল পর্যন্ত সফটওয়্যার আপডেট প্রদানের নিশ্চয়তা দিচ্ছে কোম্পানিটি।
মার্কিন পিআইআরজি-এর রাইট টু রিপেয়ার ক্যাম্পেইনের প্রধান নাথান প্রক্টর বলেন, ফেয়ারফোনের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে চাইলেই প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো সহজে মেরামতযোগ্য পণ্য তৈরি করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের কথা মাথায় রেখে যারা স্মার্টফোন কিনতে চান, তাদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে।