যুক্তরাজ্যের লন্ডন, যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস এবং সিনসিনাটিসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ডেটা ও ফিন্যান্স বিশেষজ্ঞরা মাইক্রোসফট এক্সেলকে নতুন রূপ দিচ্ছেন। পেশাদাররা এখন এক্সেলকে কেবল একটি অফিস সফটওয়্যার হিসেবে নয়, বরং একধরনের প্রতিযোগিতামূলক খেলা বা ই-স্পোর্ট হিসেবে ব্যবহার করছেন। ড্যান কিডনি, জোনাথন ট্রিস্টান ও রায়ান পার্কের মতো কনটেন্ট ক্রিয়েটররা তাদের এক্সেল ব্যবহারের চমকপ্রদ দক্ষতা প্রদর্শন করে ইন্টারনেটে লাখ লাখ অনুসারী তৈরি করেছেন।
লন্ডনের ডেটা অ্যানালিস্ট ড্যান কিডনি তার সোশ্যাল মিডিয়ায় এক্সেল স্পিডরান বা অবস্ট্যাকল কোর্সের ভিডিও শেয়ার করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। তার এই ভিডিওগুলো দেখে জার্মানির একটি স্কুলের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের এক্সেল চর্চার নির্দেশ দিয়েছেন। একইভাবে লস অ্যাঞ্জেলেসের কনটেন্ট ক্রিয়েটর জোনাথন ট্রিস্টান মনে করেন, মাউস ব্যবহার না করে কিবোর্ড শর্টকাটের মাধ্যমে এক্সেল চালানোই একজন দক্ষ ব্যবহারকারীর পরিচয়। তিনি তার প্রায় সাত লাখ অনুসারীকে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির কৌশল শেখান, যা কাজের গতি বাড়িয়ে দেয়।
সিনসিনাটির ডেটা বিজ্ঞানী রায়ান পার্ক এক্সেল শেখার প্রক্রিয়াটিকে ভিডিও গেমের মতো আনন্দদায়ক করে তুলেছেন। তিনি মনে করেন, এক্সেলের শর্টকাটগুলো অনেকটা ভিডিও গেমের বিশেষ মুভ বা কম্বোর মতো। পেশাদার মহলে এই ধরনের প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য হলো একে অপরের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করা।
বর্তমানে লাস ভেগাসের মতো শহরে নিয়মিত মাইক্রোসফট এক্সেল ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এছাড়া অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এক্সেলের মাধ্যমে ফ্লাইট সিমুলেটর বা জটিল অ্যানিমেশন তৈরির মতো কাজ করছেন অনেকে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগেও মানুষের নিখুঁত ও দ্রুতগতির এক্সেল দক্ষতা এখনো সমানভাবে প্রাসঙ্গিক এবং জনপ্রিয় বলে মনে করেন এই প্ল্যাটফর্মের বিশেষজ্ঞরা।