তাইওয়ানের তাইপেইতে চীনের সম্ভাব্য আগ্রাসন মোকাবিলার অংশ হিসেবে রেকর্ড ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের (প্রায় ১.১২৩ ট্রিলিয়ন তাইওয়ানি ডলার) প্রতিরক্ষা বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। দেশটির বাজেট, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিকস বিষয়ক অধিদপ্তর এই প্রস্তাব ঘোষণা করেছে। এই বাজেটটি আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত এবং এটি দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩.০১ শতাংশের সমান।
প্রস্তাবিত এই বাজেটের একটি বড় অংশ অর্থাৎ ৬৯১.৯ বিলিয়ন তাইওয়ানি ডলার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত কার্যক্রম ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রাখা হয়েছে। এছাড়া অস্ত্র সংগ্রহের বিশেষ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২১৮.২ বিলিয়ন তাইওয়ানি ডলার।
এই বাজেট প্রস্তাবের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে জানিয়েছেন, এই বর্ধিত ব্যয় আত্মরক্ষার সক্ষমতা শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তাইওয়ানের দৃঢ় সংকল্পের প্রমাণ। তিনি আরও বলেন, প্রতিরক্ষায় বিনিয়োগ মানেই শান্তিতে বিনিয়োগ। তাইওয়ান প্রণালী ও এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তারা প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করে তুলবেন।
তবে এই বর্ধিত বাজেট মার্কিন কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি এলব্রিজ কোলবি অতীতে মত দিয়েছিলেন যে, তাইওয়ানের উচিত তাদের জিডিপির ১০ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করা।
এখন এই বাজেট প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য দেশটির সংসদে উত্থাপন করা হবে। তবে তাইওয়ানের বর্তমান সংসদে বিরোধী দলের আধিপত্য থাকায় এটি পাস হওয়া নিয়ে বড় ধরনের আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। গত বছরও দীর্ঘ বিতর্কের পর বিরোধী দলের আপত্তিতে সামরিক বাজেট কমিয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।