বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত জানিয়েছেন, বিগত ১৭ বছরে স্বাস্থ্য খাতে তৈরি হওয়া বিভিন্ন সমস্যা এক রাতে সমাধান করা সম্ভব নয়। সরকারের বর্তমান মেয়াদের প্রথম ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের জঞ্জাল দূর করে একটি টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তার সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম ছয় মাস তারা সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং ভিত্তি তৈরির কাজে ব্যয় করেছেন। বিগত সময়ে স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে হাসপাতালগুলোর যে রুগ্নদশা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যা সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১৫১টিতে উন্নীত করা এবং চিকিৎসকদের জন্য বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে ৫ হাজার চিকিৎসক ও ১ হাজার নার্স নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করা।
ড. মুহিত আরও জানান, স্বাস্থ্য খাতে স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে ডিজিটাল অটোমেশনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের হাজিরা থেকে শুরু করে পদায়ন প্রক্রিয়াকেও অটোমেশনের আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং আধুনিক কিট ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের রিপোর্টের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কমিশনের প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে বাস্তবসম্মত এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয়গুলো বাস্তবায়নে তার সরকার কাজ করছে। তবে গত ১৭ বছর ধরে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট ভাঙা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। মাঠ পর্যায়ে ঘুরে সমস্যা চিহ্নিত করার পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর কাজ চলছে।
চিকিৎসকদের পেশাগত দক্ষতার উন্নয়নে দেশি-বিদেশি প্রশিক্ষকদের মাধ্যমে যৌথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং মেডিকেল গবেষণার ক্ষেত্রগুলোকে আরও সক্রিয় করার পরিকল্পনার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে নার্সিং ইনস্টিটিউট ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের প্রশিক্ষণে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।