মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কাজের সুযোগ পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে দেখছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নতুন কোনো সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দলটি। মালয়েশিয়ার এফডব্লিউসিএমএস প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত ৪২৩টি শর্তপূরণকারী রিক্রুটিং এজেন্সির মধ্য থেকে মাত্র ২৫টি এজেন্সিকে বাছাই করার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে এনসিপি এই প্রক্রিয়া ও মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
শনিবার রাতে দলের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বার্তায় এনসিপির মুখপাত্র এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ডায়াস্পোরা বিষয়ক উপ-কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এই উদ্বেগের কথা জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার ৪২৩টি এজেন্সির তালিকা পাঠালেও সেখান থেকে ২৫টি এজেন্সি কোন ভিত্তিতে নির্বাচন করা হয়েছে, তা এখনো অস্পষ্ট।
অতীতের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে এনসিপি জানায়, অতীতে সিন্ডিকেটের কারণে শ্রমিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের নজির রয়েছে। সরকার নির্ধারিত ফিয়ের চেয়ে অনেক গুণ বেশি টাকা নেওয়ায় শ্রমিকরা চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। নতুন করে সীমিত এজেন্সিকে সুযোগ দিলে পুনরায় সেই সিন্ডিকেট ফিরে আসার ঝুঁকি রয়েছে।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, বিদেশে যাওয়ার জন্য জমি বিক্রি বা ঋণ নেওয়া কর্মীদের কষ্টার্জিত অর্থ যেন কোনো সিন্ডিকেটের পকেটে না যায়, তা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। আওয়ামী লীগ আমলে যেসব এজেন্সি রাজনৈতিক প্রভাবে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিল, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
এনসিপি আরও দাবি করেছে, ২০২৪ সালে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেও যারা মালয়েশিয়া যেতে পারেননি, তাদের বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধান করতে হবে। এছাড়া জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের সংখ্যা ও অভিবাসন ব্যয়সহ পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে জনসম্মুখে প্রকাশ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।