যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যবহৃত স্বয়ংক্রিয় লাইসেন্স প্লেট রিডার বা ফ্লক সেফটি ক্যামেরা নিয়ে জনরোষ ও প্রযুক্তিটি বন্ধের দাবি জোরালো হচ্ছে। ফক্স নিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ফ্লক সেফটির প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও গ্যারেট ল্যাংলি জানিয়েছেন, জননিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার মধ্যে জাতীয় পর্যায়ে একটি সমঝোতা প্রয়োজন। মূলত নাগরিকরা এই নজরদারি প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং গোপনীয়তা ভঙ্গের আশঙ্কায় তীব্র আপত্তি জানাচ্ছেন।
বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক অঙ্গরাজ্যে অপরাধ তদন্তে পুলিশ ফ্লক ক্যামেরা ব্যবহার করে। তবে সম্প্রতি এর প্রতিবাদে অনেক স্থানে ক্যামেরা ভাঙচুর বা ক্যামেরা লেন ঢেকে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। ফ্লোরিডার সেন্ট পিটার্সবার্গে জনসম্মুখে এই ক্যামেরার প্রতিবাদ করার নজিরও রয়েছে। এছাড়া নিউইয়র্ক, মিনেসোটা, ক্যালিফোর্নিয়া ও ইলিনয়ে ক্যামেরা চুরি বা ধ্বংসের খবর পাওয়া গেছে। বোস্টনেও কোম্পানিটির অফিসের সামনে বিক্ষোভ করেছেন অ্যাক্টিভিস্টরা।
রাজনৈতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এই প্রযুক্তি পুরোপুরি নিষিদ্ধের প্রস্তাব দিয়েছেন এবং টেনেসির প্রতিনিধি টিম বার্চেট এই খাতে কেন্দ্রীয় অর্থায়ন বন্ধের পক্ষে মত দিয়েছেন।
ল্যাংলি দাবি করেন, এই প্রযুক্তি অপরাধ দমনে অত্যন্ত কার্যকর এবং এটি ব্যবহার করে ১০ হাজারের বেশি নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা সম্ভব হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে কঠোর জবাবদিহিতা ও নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। কোম্পানিটি এখন তথ্য সংরক্ষণের সময়সীমা সাত দিনে নামিয়ে আনা এবং অস্বাভাবিক আচরণ শনাক্তের জন্য অডিট টুলের ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে।