২০২৬ বিশ্বকাপে ফুটবল বিশ্বের দুই পরাশক্তি ব্রাজিল ও জার্মানির ভরাডুবি হয়েছে। প্যারাগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে হেরে জার্মানি এবং নরওয়ের কাছে পরাজিত হয়ে ব্রাজিল আসর থেকে বিদায় নিয়েছে। মোট ৯টি বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ডধারী এই দুই দলের এমন বিদায় ফুটবল বিশ্বে বিস্ময় তৈরি করেছে। নিজেদের চেনা ছক ও পারফরম্যান্স থেকে দল দুটি কেন এভাবে বিচ্যুত হলো, তা নিয়ে ভক্ত ও বিশ্লেষকদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা।
জার্মানির ব্যর্থতার কারণ
কোচ জুলিয়ান নাগেলসমানের অধীনে জার্মানি অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেলে দল গঠন করলেও মাঠের পারফরম্যান্সে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। একাদশ নির্বাচন নিয়ে ছিল প্রশ্ন। দীর্ঘ সময় পর ম্যানুয়েল নয়্যারকে গোলরক্ষক হিসেবে ফেরানোর সিদ্ধান্ত খুব একটা কাজে আসেনি। ইনজুরির কারণে সার্জ জিনাব্রি ও নিকো শ্লটারবেকের মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের হারানো রক্ষণভাগকে দুর্বল করে দেয়। এছাড়া ফিলিপ লামের মতে, জার্মানি তাদের খেলার মূল দর্শন হারিয়ে ফেলেছে এবং দলের মধ্যে ঐক্যবদ্ধতার অভাব ছিল স্পষ্ট। টাইব্রেকারে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের পেনাল্টি নিতে অনীহা তাদের মানসিক দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ব্রাজিলের ব্যর্থতার কারণ
ব্রাজিলের ব্যর্থতার মূলে রয়েছে বিতর্কিত দল নির্বাচন। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা স্ট্রাইকার জোয়াও পেদ্রোকে দলে না রাখা এবং বয়োজ্যেষ্ঠ নেইমারের ওপর নির্ভরতা সমালোচনার মুখে পড়েছে। ব্রাজিল কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও মনে করেন, কোচ কার্লো আনচেলত্তির কৌশলগত ভুল এবং তরুণ প্রতিভাবান এন্দ্রিককে পর্যাপ্ত সুযোগ না দেওয়া ছিল বড় ভুল। এছাড়া রাফিনহা ও লুকাস পাকেতার চোট এবং নরওয়ের বিপক্ষে বল দখলে পিছিয়ে থাকা প্রমাণ করে যে ব্রাজিল তাদের ঐতিহ্যবাহী ‘জোগা বনিতো’ ফুটবল থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। ১৯৬৬ সালের পর নরওয়ের বিপক্ষে তাদের বল পজেশন ছিল সর্বনিম্ন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ব্যর্থতার পর জার্মানি পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ইয়ুর্গেন ক্লপকে নতুন কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। অন্যদিকে, ব্রাজিল এখনো কার্লো আনচেলত্তির ওপর আস্থা রেখেছে, যদিও রোমারিওসহ অনেক ফুটবল ব্যক্তিত্ব তার অপসারণ দাবি করেছেন। দীর্ঘ সময় বিশ্বকাপ ট্রফিহীন থাকা এই দুই পরাশক্তি কি পারবে তাদের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে, নাকি নতুন করে নিজেদের পরিচয় গড়ে তুলতে হবে—এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।