অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অবস্থিত ভিয়েনা ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজির (TU Wien) গবেষকরা একটি ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ তৈরি করছেন, যা কোয়ান্টাম কম্পিউটারের প্রযুক্তি ব্যবহার করে কাজ করবে। গবেষকদের মতে, এই উদ্ভাবনটি অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে আরও স্পষ্ট এবং বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরতে সহায়ক হবে।
প্রচলিত ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপে ইলেকট্রন ব্যবহারের মাধ্যমে নমুনা পর্যবেক্ষণ করা হয়, যা অনেক সময় ভঙ্গুর জৈবিক নমুনার ক্ষতি করতে পারে। নতুন এই পদ্ধতিতে ইলেকট্রন এবং আয়ন ট্র্যাপ ভিত্তিক কোয়ান্টাম কম্পিউটারের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা হচ্ছে। এর ফলে ইলেকট্রন থেকে প্রাপ্ত তথ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
গবেষক এলিয়াস পেসকোলের জানান, ইলেকট্রনের মাধ্যমে প্রাপ্ত কোয়ান্টাম তথ্য কোয়ান্টাম কম্পিউটারের আইয়নে সংরক্ষিত হবে। এতে কোয়ান্টাম এনট্যাঙ্গেলমেন্ট বা কোয়ান্টাম জট তৈরির মাধ্যমে ইলেকট্রন এবং আয়ন একটি যৌথ কোয়ান্টাম অবস্থায় পৌঁছাতে পারবে।
এ প্রক্রিয়ায় প্রতিটি ইলেকট্রন থেকে অধিক তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব, ফলে আগের তুলনায় অনেক কম ইলেকট্রন ব্যবহার করেই উচ্চমানের চিত্র পাওয়া যাবে। এটি বিশেষ করে প্রোটিনের মতো সংবেদনশীল জৈবিক নমুনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
বর্তমানে ভিয়েনা ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজির ট্রান্সমিশন ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপি সেন্টারে এই যন্ত্রটি নির্মাণের কাজ চলছে। প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে ইউনিভার্সিটি অফ ভিয়েনা, জেকেইউ লিনজ এবং ইউনিভার্সিটি অফ ইনসব্রুকের গবেষকরা যৌথভাবে কাজ করছেন। গর্ডন অ্যান্ড বেটি মুর ফাউন্ডেশন এবং অস্ট্রিয়ান সায়েন্স ফান্ডের অর্থায়নে এই গবেষণা পরিচালিত হচ্ছে।