ইউরোপের ২২টি দেশের অন্তত ১৫০ জন নারী রাজনীতিবিদকে ডিপফেক পর্নোগ্রাফির লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে, যা অনলাইনে নারীদের হয়রানি ও ভয় দেখানোর ক্রমবর্ধমান প্রবণতাকে তুলে ধরেছে। জার্মান ডিজিটাল ডেমোক্রেসি থিঙ্কট্যাঙ্ক আগোরা ডিজিটালে ট্রান্সফরমেশনের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ১৬০টি ওয়েবসাইটে এসব রাজনীতিবিদদের ছবি ও নাম অপব্যবহার করা হচ্ছে। গবেষণার প্রধান গবেষক বেঞ্জামিন শুলজ জানান, ভুক্তভোগীদের মধ্যে ১৩৮ জন নারী সংসদ সদস্য রয়েছেন, যেখানে পুরুষ সংসদ সদস্যের সংখ্যা মাত্র নয়জন। অর্থাৎ, নারী সংসদ সদস্যরা পুরুষদের তুলনায় ৩৩ গুণ বেশি ডিপফেক আক্রমণের শিকার হচ্ছেন।
জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ইতালি এবং ফ্রান্সের রাজনীতিবিদদের এসব সাইটে সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। যত বেশি পদমর্যাদা সম্পন্ন রাজনীতিবিদ, তাদের ডিপফেক তৈরির লক্ষ্যবস্তু হওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি। অনেক ক্ষেত্রে রাজনীতিবিদদের ছবির পাশাপাশি তাদের নাম এবং ব্যক্তিগত তথ্যের ডাটাবেজ তৈরি করে রাখা হয়েছে, যাতে সহজেই ডিপফেক তৈরি করা সম্ভব হয়। কিছু সাইটে নারীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য বা তাদের শরীরের রেটিং দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
এই প্রযুক্তির ভয়াবহতা সম্পর্কে ডাচ সংসদ সদস্য সুজান ক্রোয়েগার বলেন, এটি অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। এটি শুধুমাত্র একজন রাজনীতিবিদকে ছোট করার চেষ্টা নয়, বরং নারীদের রাজনীতি ও জনজীবন থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার একটি কৌশল। ডিপফেক ভিডিওগুলোর মাধ্যমে তাদের ভয় দেখানো হচ্ছে এবং তাদের মানসিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে।
গবেষক বেঞ্জামিন শুলজ সব ভুক্তভোগী এমপিদের বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করেছেন এবং এই কন্টেন্ট সরিয়ে ফেলার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞ হেনরি আজদারের মতে, এই ডিপফেক সাইটগুলো ব্যবসার মতো করে পরিচালিত হচ্ছে এবং এর অবকাঠামো এমনভাবে তৈরি যে খুব সহজেই এটি ব্যবহার করা যাচ্ছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাজ্য এই ধরনের ডিপফেক সেবা নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে। এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘টেক ইট ডাউন অ্যাক্ট’-এর আওতায় বেশ কিছু বড় ডিপফেক ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, এই ধরনের অনৈতিক চর্চা বন্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।