বাংলাদেশের কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত এলএনজি ফ্লোটিং টার্মিনালে দেখা দেওয়া যান্ত্রিক ত্রুটি চার দিনেও নিরসন করা সম্ভব হয়নি এবং পেট্রোবাংলা কবে নাগাদ মেরামতের কাজ শেষ হবে সে বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারেনি। পেট্রোবাংলার প্রকৌশল পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, এবারের ত্রুটিটি পূর্বের যেকোনো সমস্যার চেয়ে অনেক বেশি জটিল, যার ফলে মেরামত কাজ সম্পন্ন হতে দীর্ঘ সময় লাগছে।
পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, সাধারণত একই ধরনের সমস্যা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সমাধান করা সম্ভব হলেও এবার তা সম্ভব হচ্ছে না। তবে রফিকুল ইসলাম দাবি করেছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় থাকা এলএনজি টার্মিনালগুলোর মধ্যে এটি বেশ কার্যকর। বর্তমানে এটি প্রায় ৮০ শতাংশ কর্মক্ষমতায় পরিচালিত হয়, যেখানে একই ধরনের অন্যান্য টার্মিনাল সাধারণত ৪০ শতাংশ কর্মক্ষমতা নিয়ে চলে।
বাংলাদেশে দুটি এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে, যার একটি সামিট এলএনজি টার্মিনাল এবং অন্যটি এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত। বর্তমানে এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত টার্মিনালটিতে এই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া খারাপ থাকলেই প্রায় প্রতি বছর দেশের এলএনজি টার্মিনালগুলোতে এ ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনা ঘটে আসছে, যা জনজীবনে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি করে।
গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতে ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়েছে। পর্যাপ্ত গ্যাসের অভাবে ৩৮টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে এবং সার উৎপাদন কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এছাড়া সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে এবং অনেক স্টেশন বন্ধ থাকায় পরিবহন ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গ্যাস সংকটের কারণে রফতানি আদেশ পূরণ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শিল্প উদ্যোক্তারা।