যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডে ফেডারেল আদালতে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি ও নিরাপত্তার ঝুঁকি বিষয়ক এক মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন ইনস্টাগ্রামের প্রধান অ্যাডাম মোসেরি। ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কেনটাকি এবং নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের পক্ষ থেকে করা এই মামলায় অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, মেটা তাদের প্ল্যাটফর্মগুলো এমনভাবে তৈরি করেছে যাতে শিশুরা আসক্ত হয়ে পড়ে এবং তাদের তথ্য সংগ্রহ করা সহজ হয়। এই ঝুঁকিগুলোর বিষয়ে কোম্পানিটি সচেতন ছিল কিনা, তা যাচাই করতেই মোসেরিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
আদালতে মোসেরি স্বীকার করেন যে, ২০২১ সালে কিশোর-কিশোরীদের অ্যাপ ব্যবহারের সময়সীমা নিয়ন্ত্রণের জন্য চালু করা ‘টেক এ ব্রেক’ ফিচারটি প্রত্যাশা অনুযায়ী কার্যকর হয়নি। অভ্যন্তরীণ নথিপত্র অনুযায়ী, মাত্র ১.৮ শতাংশ কিশোর-কিশোরী ফিচারটি ব্যবহার করেছিল। বিষয়টি নিয়ে মোসেরি বলেন, এই টুলটি সাহায্য করলেও তা আমাদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালে ফিচারটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিফল্ট সেটিং হিসেবে চালু করা হয়।
অভিযোগকারী পক্ষের আইনজীবী জেসন স্লোথউবার আদালতে উল্লেখ করেন যে, ফিচারটি চালুর সময় মোসেরি দাবি করেছিলেন ৯০ শতাংশ ব্যবহারকারী এটি চালু রেখেছেন, অথচ প্রকৃত ব্যবহারকারী ছিল অত্যন্ত নগণ্য। অভিভাবকদের কাছে এই তথ্য গোপন করার বিষয়টি ভোক্তা অধিকার আইনের লঙ্ঘন হতে পারে বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেন। মোসেরি স্বীকার করেন যে, ফিচারটি যে মাত্র ১-২ শতাংশ কিশোর-কিশোরী ব্যবহার করছে, সেই তথ্য মেটা কখনো প্রকাশ করেনি।
মেটার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা কিশোর-কিশোরীদের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন এবং আসক্তি কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে এই প্রচেষ্টার বিপরীতে মোসেরি বলেন, এই জাতীয় সমস্যার কোনো একক সমাধান নেই, বরং অনেক ছোট ছোট পদক্ষেপের সমন্বয় প্রয়োজন। মামলার গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ মেটার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য জরিমানার পরিমাণ ১.৪ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এই বিচার প্রক্রিয়াটি নব্বইয়ের দশকে তামাক কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে চলা ঐতিহাসিক মামলার সাথে তুলনা করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। আগামী কয়েক সপ্তাহ এই বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।