বাংলাদেশের ঢাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। ১৯৭৩ সালের এই আইনটি বাতিল ও এর কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় গুরুত্বপূর্ণ এই আইনি লড়াইটির দিকে সবার নজর ছিল।
রিট আবেদনের বিবরণ
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ মহসিন রশিদ এই রিটটি দায়ের করেছিলেন। এতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে বিবাদী করা হয়। রিটে ১৯৭৩ সালের আইনটিকে ‘অপ্রচলিত’, ‘কার্যকারিতাহীন’ এবং ‘রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের হাতিয়ার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
রিট আবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত অপরাধের বিচারের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের এখতিয়ার নিয়ে আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছিল। কিন্তু শিমলা চুক্তি ও ত্রিপক্ষীয় দিল্লি চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধবন্দীদের প্রত্যাবাসনের পর এই আইনের অধীনে বিচারের সুযোগ শেষ হয়ে যায়। আবেদনকারীর দাবি, ২০০৯ সাল থেকে আইনটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে।
আইনি যুক্তি
রিটে দাবি করা হয়েছে, এই আইনের প্রয়োগ সংবিধানের ৩১ (আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার) এবং ৩৫ (বিচার ও দণ্ড সম্পর্কে রক্ষণ) অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন। এছাড়া হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকদের দিয়ে ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ পরিচালনা সংবিধানের ৯৪(৩) অনুচ্ছেদের পরিপন্থি বলেও রিটে উল্লেখ করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন হুমকিতে পড়েছে বলে দাবি করেছিলেন রিটকারী আইনজীবী। তবে শুনানির পর আদালত আবেদনটি খারিজ করে দেন।