ঢাকাSaturday , 12 September 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও বিচার
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. খেলাধুলা
  7. চাকরি
  8. জাতীয়
  9. ধর্মীয় সম্প্রীতি
  10. পরিবেশ ও কৃষি
  11. প্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. বিশেষ প্রতিবেদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সব খবর

দেশে শিশুধর্ষণের উদ্বেগজনক বৃদ্ধি: কঠোর পদক্ষেপের দাবি


September 12, 2026 11:45 am
Link Copied!

বাংলাদেশে শিশুধর্ষণের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে শিশুধর্ষণের অভিযোগে ১ হাজার ৪৮৫টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৯৯৮টি, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে এক বছরের ব্যবধানে মামলা বেড়েছে প্রায় ৪৯ শতাংশ। এর আগে ২০২৪ সালের একই সময়ে মামলার সংখ্যা ছিল ৭৫১টি। অর্থাৎ, মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে মামলার হার প্রায় ৯৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা রোধে রাষ্ট্র, পরিবার ও সমাজকে এখনই কঠোর ও দৃশ্যমান কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

ঝুঁকিপূর্ণ পরিচিত পরিসর
পুলিশের মাঠ পর্যায়ের তথ্যানুযায়ী, শিশুধর্ষণের একটি বড় অংশের সঙ্গে পরিচিত ব্যক্তি, স্বজন, প্রতিবেশী কিংবা বিশ্বাসভাজনরা জড়িত থাকছেন। মাগুরায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় বোনের শ্বশুর এবং নেত্রকোনার মদনে মাদ্রাসার ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় ওই শিক্ষকের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এসব ঘটনা প্রমাণ করে যে, শিশুদের জন্য পরিবার বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো পরিচিত সামাজিক গণ্ডিও সবসময় নিরাপদ নয়। সামাজিক লজ্জা ও ভয়ে অনেক পরিবার ঘটনা চেপে যায়, যা অপরাধীদের উৎসাহিত করে।

বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতি
উচ্চ আদালতের তথ্যমতে, গত বছরের শেষ পর্যন্ত দেশের ৯৯টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ১ লাখ ৩২ হাজার ১০৭টি মামলা বিচারাধীন ছিল। এর মধ্যে ৩০ হাজার ৩৬৫টি মামলা পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে ঝুলে আছে। বিচার প্রক্রিয়ার এই দীর্ঘসূত্রতা ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারকে হতাশ করে এবং অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে। যদিও পল্লবীতে একটি মামলায় মাত্র ১৯ দিনে রায় হওয়ার ঘটনাটি ইতিবাচক, তবে এমন দৃষ্টান্ত এখনো খুবই কম।

প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ
কেবল মৃত্যুদণ্ডের বিধান দিয়ে বা বিচ্ছিন্নভাবে বিচার সম্পন্ন করে এই অপরাধ নির্মূল সম্ভব নয়। এজন্য তদন্তে দক্ষতা বাড়ানো, বৈজ্ঞানিকভাবে আলামত সংগ্রহ, সাক্ষীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং থানা, হাসপাতাল ও আদালতের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। একইসঙ্গে শিশুদের ‘নিরাপদ ও অনিরাপদ স্পর্শ’ সম্পর্কে সচেতন করা, পরিবারে শিশুদের কথা শোনার সংস্কৃতি গড়ে তোলা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভিযোগ গ্রহণের নিরাপদ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে এখন সুনির্দিষ্ট ও পরিমাপযোগ্য কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।