যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে মেটার ১৮ বিলিয়ন ডলারের সমঝোতা চুক্তি হয়েছে, যা ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তায় নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে। মেটা কোনো ধরনের অন্যায় স্বীকার না করলেও, এই চুক্তির আওতায় তারা শিশুদের জন্য স্ক্রিন টাইম লিমিট, সতর্কবার্তা এবং অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণের মতো বেশ কিছু সুরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত করতে সম্মত হয়েছে। যদিও এই নিয়মগুলো আপাতত শুধু যুক্তরাষ্ট্রের শিশুদের জন্য প্রযোজ্য, তবে এটি বিশ্বজুড়ে অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সরকারের নীতি নির্ধারণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের ওপর প্রভাব
যুক্তরাজ্য সরকার শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে নিজস্ব উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ২০২৭ সাল থেকে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। মেটার নতুন এই সমঝোতার ফলে যুক্তরাজ্য সরকার তাদের বর্তমান অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে এবং অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকেও একই ধরনের বিধিনিষেধ মানতে বাধ্য করার ক্ষেত্রে উৎসাহিত বোধ করবে।
অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের অবস্থান
মেটা এই সমঝোতার পর টিকটক ও ইউটিউবের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী প্ল্যাটফর্মগুলোকেও একই নিয়ম অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। মেটার দাবি, সকল প্ল্যাটফর্মে সমপর্যায়ের নিয়ম থাকা প্রয়োজন, যাতে এক প্ল্যাটফর্ম থেকে ব্যবহারকারীরা অন্য প্ল্যাটফর্মে ঝুঁকে না পড়ে। তবে এখন পর্যন্ত টিকটক, ইউটিউব বা স্ন্যাপচ্যাটের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ক্ষতিপূরণ ও পরবর্তী লক্ষ্য
১৮ বিলিয়ন ডলারের এই সমঝোতা অর্থের একটি বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ব্যয় করা হবে। নিউ ইয়র্কসহ অন্যান্য অঙ্গরাজ্যগুলো এই অর্থ তরুণ প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থ্য ও শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মের ওপর এই সীমাবদ্ধতা যথেষ্ট নয়। শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কনটেন্টের ধরন ও ডেটা ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও কঠোর নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে।
গোপনীয়তা ও ডেটা ব্যবহার
এই সমঝোতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ। মেটা এখন থেকে শুধুমাত্র বয়স নির্ধারণের উদ্দেশ্যে তরুণ ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত ডেটা ব্যবহার করতে পারবে। তবে বয়স যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে গোপনীয়তা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগ রয়েই গেছে। সমালোচকদের মতে, কঠোর বয়স যাচাইয়ের প্রক্রিয়া অনেক সময় আরও বেশি ব্যক্তিগত ডেটা সংগ্রহের ঝুঁকি তৈরি করে।