যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে ওরা (Oura) স্মার্ট রিংয়ের স্লিপ ট্র্যাকিং বা ঘুমের তথ্য বিশ্লেষণের নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে একটি ক্লাস অ্যাকশন মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে বাদীপক্ষের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি তাদের এআই-ভিত্তিক ত্রুটিপূর্ণ প্রযুক্তিকে নির্ভরযোগ্য বিজ্ঞান হিসেবে প্রচার করে গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করছে। এই মামলাটি পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি বা ওয়্যারেবল ডিভাইসের পুরো বাজারের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই শিল্পের ভিত্তিই হলো আঙুল বা কবজি থেকে নেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্বাস্থ্যের সঠিক মূল্যায়ন।
অভিযোগে যা বলা হয়েছে
ম্যাডিসন সারবার নামের এক গ্রাহক গত বছর প্রায় ৫০৩ ডলারে ওরা রিং কেনেন। তার দাবি, প্রতিষ্ঠানটি তাদের পণ্যের নির্ভুলতা নিয়ে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, ডিভাইসটি তা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ঘুমের পর্যায়গুলো নির্ভুলভাবে পরিমাপ করার জন্য প্রয়োজনীয় সেন্সর যেমন ব্রেইন ওয়েভ, চোখের নড়াচড়া বা কার্ডিয়াক অ্যাক্টিভিটির মতো বিষয়গুলো রিংটিতে নেই। নেচার সাময়িকীর একটি গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে মামলায় বলা হয়েছে, ঘুমের পর্যায় শনাক্তকরণে এই ডিভাইসের সাফল্যের হার মাত্র ৫৩ শতাংশ, যা অনেকটা মুদ্রার পিঠ মেলাতে চাওয়ার মতোই অনিশ্চিত।
প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান
এই মামলার বিষয়ে ওরা এক বিবৃতিতে তাদের প্রযুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের বিজ্ঞান ও গবেষণার মান এবং তথ্যের নির্ভুলতার ওপর তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। ওরার দাবি, ঘুমের পর্যায়গুলোর সাথে মানুষের শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনের স্পষ্ট ও প্রমাণিত বৈজ্ঞানিক যোগসূত্র রয়েছে, যা তাদের ডিভাইসের সেন্সরগুলো নির্ভরযোগ্যভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
এই মামলার রায় যদি বাদীপক্ষের পক্ষে যায়, তবে এটি স্বাস্থ্য-সংশ্লিষ্ট পরিধানযোগ্য প্রযুক্তির বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ বর্তমানের প্রায় সব স্মার্ট রিং বা স্মার্টওয়াচ হৃদস্পন্দন, শরীরের তাপমাত্রা এবং রক্তে অক্সিজেনের মাত্রার মতো বায়োমেট্রিক সংকেত ব্যবহার করে ব্যবহারকারীর ঘুম ও চাপের মাত্রা নির্ধারণ করে। এখন আদালত এটি গ্রহণ করে কি না, সেটিই দেখার বিষয়।