বাংলাদেশের ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় তারা নিয়মিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মিছিলের অপেক্ষায় থাকতেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: স্ফুলিঙ্গ থেকে চলমান বিপ্লব’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ও অসামান্য অবদানের কথা তুলে ধরতেই এই আলোচনার আয়োজন করা হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় ছাত্রশক্তি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে নাহিদ ইসলাম বলেন, যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদের রক্ত মিশে আছে, সেই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী হওয়া গর্বের বিষয়। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় ভূমিকা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি তাদের ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন কখনো পায়নি।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় জগন্নাথ কলেজের বড় অবদান ছিল। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্র ও সমাজে যে স্বীকৃতি পেয়েছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় তার তুলনায় বঞ্চিত থেকেছে। তাই ভবিষ্যতে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে আধুনিক ও উন্নত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সবার সুনজর প্রয়োজন। রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটি দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে বড় অবদান রাখতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনে শহীদ হওয়া জবি শিক্ষার্থী একরামুল হক সাজিদের মা আবেগঘন বক্তব্য রাখেন। এছাড়া আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ মাহাদী আমিনের বাবা, জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম এবং নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল-আমিনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা স্মৃতিচারণ করেন। বক্তারা বৈষম্যমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে রাজনৈতিক জুলুমের পরিবর্তে জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।