যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন সুপারশপে টিনজাত অ্যাটলান্টিক ম্যাকেরেলের পরিবর্তে ভিন্ন প্রজাতির মাছ বিক্রির ঘটনা ঘটছে, যাকে ভোক্তা অধিকার সংস্থা ‘হুইচ?’ (Which?) ‘স্কিম্পফ্লেশন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সংস্থাটির খাদ্য নীতি বিষয়ক প্রধান সু ড্যাভিস জানান, নির্মাতারা চুপিসারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবারের মান কমিয়ে গ্রাহকদের একই দামে কম পুষ্টিগুণসম্পন্ন পণ্য গছিয়ে দিচ্ছে, যা উদ্বেগজনক।
অ্যাটলান্টিক ম্যাকেরেলের মজুত কমে যাওয়ায় প্রিন্সেসসহ বেশ কিছু সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং লিডল (Lidl) তাদের পণ্যে জ্যাক ম্যাকেরেল ব্যবহার শুরু করেছে। জ্যাক ম্যাকেরেলে প্রথাগত ম্যাকেরেলের তুলনায় ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড প্রায় অর্ধেক এবং ভিটামিন বি১২ তিন ভাগের এক ভাগ থাকে।
কেন এই পরিবর্তন
দীর্ঘদিনের অতিরিক্ত মাছ ধরার ফলে অ্যাটলান্টিক ম্যাকেরেলের মজুত নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে অনেক সুপারশপ এখন চিলির জ্যাক ম্যাকেরেল ব্যবহার করছে, যা তুলনামূলক টেকসই এবং দামে অনেক সস্তা। প্রিন্সেস কোম্পানি জানিয়েছে, তারা মেরিন স্টুয়ার্ডশিপ কাউন্সিলের সনদপ্রাপ্ত মাছ ব্যবহার করছে এবং প্যাকেটে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
ভোক্তা ও মৎস্য শিল্পের উদ্বেগ
নতুন এই মাছের স্বাদ ও গঠন নিয়ে অনেক গ্রাহক অসন্তোষ জানিয়েছেন। এছাড়া মাছের লেবেলিং নিয়ে বিভ্রান্তির অভিযোগও উঠেছে। স্কটিশ পেলাজিক ফিশারম্যানস অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, জ্যাক ম্যাকেরেল এবং অ্যাটলান্টিক ম্যাকেরেল এক নয়। জ্যাক ম্যাকেরেল মূলত ক্যারানগিডি পরিবারের মাছ, অন্যদিকে আসল ম্যাকেরেল স্কমব্রিডি পরিবারের। তারা মনে করে, এটি গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করার একটি প্রক্রিয়া।
পটভূমি
অ্যাটলান্টিক ম্যাকেরেল নিয়ে যুক্তরাজ্য, আইসল্যান্ড, নরওয়েসহ বেশ কিছু দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের কোটা বিতর্ক রয়েছে। বিজ্ঞানীদের পরামর্শ উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন মাছ ধরার ফলে এর মজুত আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। মেরিন কনজারভেশন সোসাইটির তথ্যমতে, আটলান্টিকের ম্যাকেরেল জনসংখ্যা এখন পতনের দ্বারপ্রান্তে। এরই মধ্যে ওয়েইট্রোজের মতো সুপারশপ মাছের মজুত ফুরিয়ে যাওয়ায় ফ্রেশ ম্যাকেরেল বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। এই প্রবণতা কেবল যুক্তরাজ্যে সীমাবদ্ধ নয়, নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের বাজারেও একই ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।