যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এআই এজেন্ট ব্যবহারের প্রবণতা নিয়ে ডেলয়েট, কেপিএমজি এবং অ্যাকসেঞ্চারের নতুন তিনটি গবেষণায় একটি অভিন্ন বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে। জরিপগুলোর তথ্যমতে, প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত এআই প্রযুক্তি গ্রহণ করলেও এর মাধ্যমে কার্যকর ব্যবসায়িক ফলাফল অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো বা কর্মপদ্ধতি তৈরিতে ধীরগতি দেখাচ্ছে।
ডেলয়েটের ‘এজেন্টিক ট্রান্সফরমেশন’ জরিপে দেখা গেছে, ৪৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠান এআই এজেন্ট মোতায়েন বাড়ালেও মাত্র ১৬ শতাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এর যথাযথ ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত। বেশিরভাগ নেতা আশা করছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে অর্ধেকের বেশি ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া এআই এজেন্টের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হবে, তবে বর্তমানে কর্মী প্রস্তুতির হার মাত্র ২০ শতাংশ।
সেলসফোর্সের তথ্যে দেখা গেছে, গত এক বছরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সক্রিয় এআই এজেন্টের সংখ্যা তিন গুণ বেড়েছে। তবে কেপিএমজির বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের মনোযোগ এখন কেবল পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে সরে গিয়ে দায়বদ্ধতা, অর্থনৈতিক মুনাফা এবং সুশাসনের দিকে সরছে। ৭৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠান এআই থেকে প্রকৃত ব্যবসায়িক সুফল পেতে শুরু করলেও, যথাযথ তদারকির অভাবে বড় একটি অংশ এখনো আশানুরূপ বিনিয়োগ ফেরত (ROI) পাচ্ছে না।
অ্যাকসেঞ্চার এবং ওয়ার্টনের যৌথ গবেষণায় বলা হয়েছে, বুদ্ধিমত্তা বা প্রযুক্তি স্কেলযোগ্য হলেও কাজের দায়বদ্ধতা কোনো যন্ত্রের ওপর ছেড়ে দেওয়া সম্ভব নয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির প্রায় ৫০ শতাংশ কর্মঘণ্টা ৬০টির মতো ডিজিটাল ও ভৌত এআই এজেন্টের মাধ্যমে প্রভাবিত হচ্ছে। অ্যাকসেঞ্চারের গবেষক জেমস ক্রোলি বলেন, কর্মক্ষেত্রে মানুষের শুধু ‘তদারককারী’ (in the loop) হিসেবে থাকা যথেষ্ট নয়, বরং মানুষকে ‘নেতৃত্বের ভূমিকায়’ (in the lead) থাকতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই এজেন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত রূপান্তরের চেয়ে মানবিক সম্পর্কের রূপান্তর বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যারা এআই গ্রহণকে কেবল একটি প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে না দেখে বরং নেতৃত্বের পরীক্ষা হিসেবে দেখবে, আগামী এক থেকে দুই বছরে তারাই ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকবে।