যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, কয়েক মাসের মধ্যেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-ভিত্তিক সাইবার বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে বিশ্ব। ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিকসহ শতাধিক প্রযুক্তি কোম্পানি যৌথ এক চিঠিতে এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছে, যা সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে বড় ধরনের সাইবার হামলা আসন্ন, তাই যেকোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থাকে দ্রুত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান
চিঠিতে এআই-ভিত্তিক হুমকির মোকাবিলায় ‘সম্মিলিত সাড়া’ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য সাইবার নিরাপত্তাকে এখন প্রধান অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। বিশেষ করে হাসপাতাল, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনিক অবকাঠামোগুলোকে সুরক্ষা দিতে সরকারগুলোকে শক্তিশালী এআই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে যারা এ ধরনের সাইবার হামলার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা ‘ব্যয় আরোপ’ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে এই চিঠিতে নির্দিষ্ট কোনো বিনিয়োগ বা বাস্তবায়নের সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি।
পানির সিস্টেমে হ্যাকারদের নজরদারি
যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তা ও অবকাঠামো নিরাপত্তা সংস্থা (সিআইএসএ) জানিয়েছে, গত জুলাই মাসে দেশটির ১০০টিরও বেশি পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থায় ক্ষতিকারক সাইবার কর্মকাণ্ড শনাক্ত করা হয়েছে। হ্যাকাররা মূলত পানি শোধনাগার বা ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত প্রোগ্রামযোগ্য লজিক কন্ট্রোলারগুলোকে (পিএলসি) লক্ষ্যবস্তু করেছে। জানা গেছে, এসব ডিভাইস ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত থাকায় দূর থেকে সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হচ্ছে। হ্যাকাররা এসব ডিভাইসে আক্রমণের জন্য এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে বলেও সিআইএসএ নিশ্চিত করেছে।
আইসিই-এর রোবট কুকুর কেনা
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক এনফোর্সমেন্ট বিভাগ (আইসিই) এক মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে বোস্টন ডায়নামিক্স থেকে রোবট কুকুর কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার অজুহাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দূর থেকে নিয়ন্ত্রিত এই রোবটগুলো মাঠ পর্যায়ে ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
অন্যান্য নিরাপত্তা উদ্বেগ
এ ছাড়া ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার এক ব্যক্তি, যিনি অনলাইনে ‘মিস্টার চাইল্ড পর্ন’ নামে পরিচিত ছিলেন, তাকে শিশুদের নিয়ে আপত্তিকর ও যৌন হয়রানিমূলক কনটেন্ট রাখার দায়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিসকর্ড প্ল্যাটফর্মে এই ব্যক্তি নিজের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য প্রচার করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, মেটা কোম্পানি শিশু নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি বড় মামলা নিষ্পত্তিতে ১৬.৭ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত জরিমানা দিতে সম্মত হয়েছে।