যুক্তরাজ্যের লন্ডনে সরকারি ঋণের ব্যয় বা বন্ডের ইয়েল্ড ১৯৯৮ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা দেশটির অর্থনীতিতে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকায় সরকারি ঋণের সুদের হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম এবং অর্থমন্ত্রী জন হিলির জন্য ২৮ অক্টোবরের বাজেট ঘোষণার আগে এটি একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
বন্ডের বাজারের বর্তমান অবস্থা
সরকার সাধারণত কর আদায়ের চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করে, যার ঘাটতি মেটাতে বিনিয়োগকারীদের কাছে বন্ড বিক্রি করে ঋণ নেয়। এই বন্ডের বিপরীতে সরকারকে নিয়মিত সুদ দিতে হয়। যুক্তরাজ্যের সরকারি বন্ড বা গিল্টস সাধারণত বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ মনে করা হয়। কিন্তু বর্তমানে ১০ বছর মেয়াদি বন্ডের ইয়েল্ড ২০০৮ সালের পর এবং ৩০ বছর মেয়াদি বন্ডের ইয়েল্ড ১৯৯৮ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর অর্থ হলো দীর্ঘমেয়াদে সরকার ঋণের বিপরীতে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সুদ দিতে বাধ্য হচ্ছে।
সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব
সরকার নিজস্ব কিছু আর্থিক নিয়ম মেনে চলে, যার ফলে ঋণের সুদ বাবদ ব্যয় বেড়ে গেলে অন্যান্য খাতে বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। এর ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাওয়া সাধারণ মানুষের জন্য সরকারি সহায়তা কমে যেতে পারে অথবা সরকার রাজস্ব বাড়াতে কর বৃদ্ধির পথ বেছে নিতে পারে। তবে এগুলো চূড়ান্ত নয়, অর্থমন্ত্রী অন্য কোনো খাতে ব্যয় সংকোচন করে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করতে পারেন।
বন্ধকী ঋণের ক্ষেত্রে প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঋণদাতার তহবিল সংগ্রহের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নতুন ফিক্সড মর্টগেজ বা বন্ধকী ঋণের সুদের হার বাড়তে পারে। তবে ২০২২ সালের তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। সে সময় হুট করে সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, এবার সেই ঝুঁকি কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে, যারা অবসরকালীন আয়ের জন্য অ্যানুইটি কিনছেন, তারা বন্ডের উচ্চ ইয়েল্ড থেকে লাভবান হতে পারেন।
কেন বাড়ছে সুদের হার
শুধু যুক্তরাজ্য নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও ইউরোপেও ঋণের ব্যয় বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার কারণে তেলের উচ্চমূল্য এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিনিয়োগকারীরা। মূল্যস্ফীতি বেশি থাকলে বন্ড থেকে প্রাপ্ত নির্দিষ্ট আয়ের ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়, তাই বিনিয়োগকারীরা অধিক মুনাফার আশায় বন্ড বিক্রি করছেন। এছাড়া বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বিনিয়োগের জন্য ঋণের চাহিদা বাড়িয়েছে, যা বাজারে সুদের হার বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।