যুক্তরাজ্যের সাসেক্সে স্কুল ইউনিফর্মের ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় দরিদ্র পরিবারগুলোর ওপর আর্থিক চাপ বাড়ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় দাতব্য সংস্থাগুলো। শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত পোশাকের লোগোযুক্ত আইটেমের সংখ্যা সীমিত করার সরকারি নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়া সত্ত্বেও এই পরিস্থিতির কথা তুলে ধরা হয়েছে।
ব্রাইটন ও হোভভিত্তিক দাতব্য সংস্থা পেলিকান পার্সেলস জানিয়েছে, স্থানীয় পর্যায়ে ইউনিফর্মের চাহিদা বাড়তে থাকায় ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ তাদের সহায়তা কার্যক্রম দ্বিগুণ করতে হতে পারে। সংস্থাটির অপারেশন প্রধান ইলেইন বেইলি বলেন, অনেক পরিবারের জন্য ইউনিফর্মের খরচ বহন করা দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত বছর সংস্থাটি ৫২০ জন শিক্ষার্থীকে ৩ হাজার ৪০০টির বেশি ইউনিফর্ম ও শিক্ষা উপকরণ সহায়তা হিসেবে দিয়েছিল।
পশ্চিম সাসেক্সের দাতব্য সংস্থা হোরশাম ম্যাটার্সের তথ্যমতে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিটি শিশুর ইউনিফর্ম বাবদ অভিভাবকদের গড়ে ৩৩৬ পাউন্ড এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে ৪৩৯ পাউন্ড ব্যয় করতে হয়। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কেলভিন গ্লেন জানান, পর্যাপ্ত ইউনিফর্মের অভাবে শিশুদের শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হতে পারে।
সরকারি নতুন নিয়মের প্রভাব
১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ তিনটি এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চারটি লোগোযুক্ত ইউনিফর্ম বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সরকার দাবি করছে, এই পদক্ষেপে প্রতিটি শিক্ষার্থী পিছু অভিভাবকদের ৫০ পাউন্ড পর্যন্ত সাশ্রয় হবে।
অভিভাবকদের প্রতিক্রিয়া
অভিভাবক চার্লি মিলনার-স্মিথ জানান, নতুন নিয়ম ইতিবাচক হলেও জুতা এবং অন্যান্য উপকরণের দাম ক্রমাগত বাড়ছে। স্টেফ স্যাভেজ নামের আরেক অভিভাবক জানান, সব সরঞ্জাম কিনতে তার ২৫০ পাউন্ড খরচ হয়েছে, যেখানে লোগোযুক্ত পোশাকের খরচ অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তবে লার্সি স্মিথ নামে অপর এক অভিভাবক জানান, তার সন্তানদের স্কুলে ইউনিফর্মের ব্যাপারে বিধিনিষেধ কম থাকায় নতুন নিয়ম খুব একটা প্রভাব ফেলছে না।
শিক্ষা দপ্তরের বক্তব্য
যুক্তরাজ্যের শিক্ষা দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, লোগোযুক্ত পণ্যের সংখ্যা সীমিত করার ফলে অভিভাবকদের ব্যয় কমবে। পরিবারগুলোর খরচ কমাতে স্কুলগুলোকে নতুন নির্দেশিকা প্রদান করা হয়েছে যাতে তাদের ওপর আর্থিক চাপ হ্রাস পায়।