যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি) প্রকাশিত নতুন এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, বিশ্বের তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করবে। জলবায়ু বিজ্ঞানীরা এখন প্যারিস চুক্তির এই সীমা অতিক্রমের সময়কাল সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনার কৌশল নিয়ে কাজ করছেন। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির এই প্রবণতা রুখতে না পারার বাস্তবতাকে স্বীকার করে নিয়ে নতুন এই ‘লিমিটিং ওভারশুট’ প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত কৌশল ও চ্যালেঞ্জ
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে ‘ওভারশুট, পিক অ্যান্ড ডিক্লাইন’ নামক এক কৌশল তুলে ধরা হয়েছে। এর জন্য বিভিন্ন দেশকে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার পাশাপাশি বায়ুমণ্ডল থেকে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড অপসারণ করতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কার্বন অপসারণ কেবল বর্তমান লক্ষ্যমাত্রার একটি পরিপূরক ব্যবস্থা, যা গ্রিনহাউস গ্যাস কমানোর বিকল্প নয়। এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।
সংশ্লিষ্টদের মন্তব্য
ইউএনইপি-এর নির্বাহী পরিচালক ইনজার অ্যান্ডারসন বলেছেন, ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে তাপমাত্রা থাকা কোনোভাবেই সুখকর নয়। বিশ্বজুড়ে তীব্র দাবদাহ প্রমাণ করছে যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দ্রুত এবং ভয়াবহ আকারে আঘাত হানছে। তিনি আরও বলেন, এখন জলবায়ু পদক্ষেপ জোরদার করার সময়। আমাদের তাপমাত্রা বৃদ্ধির সময়কাল যতটা সম্ভব কমিয়ে আনতে হবে এবং এর প্রভাব মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে।
প্যারিস চুক্তির প্রেক্ষাপট
জাতিসংঘ দীর্ঘদিন ধরে প্রাক-শিল্পায়ন যুগের তুলনায় বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখার আহ্বান জানিয়ে আসছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই বছর গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল করায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থতার হার আরও বেড়েছে। ফলে সংস্থাটি এখন তাপমাত্রা বৃদ্ধির সীমা না মানার পরিবর্তে তা নিয়ন্ত্রণের কৌশল পরিবর্তনের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।