যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের লিন এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে পেন্টাগন ইঞ্জিন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জিই অ্যারোস্পেসের সঙ্গে প্রায় ২.৯ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। প্রতিরক্ষা দপ্তরের ঘোষণা অনুযায়ী, এই চুক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি নৌবাহিনীর এফ/এ-১৮ সুপার হরনেট এবং ইএ-১৮জি গ্রোলার ইলেকট্রনিক অ্যাটাক জেটে ব্যবহৃত এফ৪১৪ ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ সরবরাহ করবে।
এটি একটি পারফরম্যান্স-ভিত্তিক লজিস্টিকস চুক্তি, যেখানে কাজের ফলাফলের ভিত্তিতে অর্থ পরিশোধ করা হবে। চুক্তিটি ২০৩১ সালের আগস্ট পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এই দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির উদ্দেশ্য হলো নৌবাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলোর সক্ষমতা বজায় রাখা এবং ফ্লিট রেডিনেস নিশ্চিত করা।
জিই অ্যারোস্পেসের ভাষ্যমতে, গত ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তারা মার্কিন নৌবাহিনীর এই গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধবিমানগুলোতে ইঞ্জিন সরবরাহ করে আসছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি তাদের উৎপাদন কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। তারা এখন এফ৪১৪ ইঞ্জিনের পাশাপাশি নতুন টি-৭ রেড হক ট্রেনিং জেটে ব্যবহৃত এফ৪০৪ ইঞ্জিনের উৎপাদন বাড়ানোর দিকে মনোনিবেশ করছে।
জিই-এর কর্মকর্তারা জানান, আগামী পাঁচ বছরে এফ৪০৪ ইঞ্জিনের উৎপাদন ক্ষমতা দ্বিগুণ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদন খরচ কমাতে এবং দ্রুত যন্ত্রাংশ তৈরির জন্য প্রতিষ্ঠানটি থ্রিডি প্রিন্টিং ও অ্যাডিটিভ ম্যানুফ্যাকচারিং প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে।
হাইপারসোনিক পরীক্ষা প্রকল্প
এই বিশাল চুক্তির পাশাপাশি পেন্টাগনের ডিফেন্স ইনোভেশন ইউনিট (ডিআইইউ) জিই অ্যারোস্পেসকে একটি লিকুইড-ফুয়েল হাইপারসোনিক টেস্ট ভেহিকেল তৈরির দায়িত্ব দিয়েছে। এটি হাইপারসোনিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির জন্য একটি বড় মাইলফলক।
ডিআইইউ-এর হাইপারসোনিক এবং হাই-ক্যাডেন্স এয়ারবোর্ন টেস্টিং ক্যাপাবিলিটিস (HyCAT) কর্মসূচির অধীনে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জিই অ্যারোস্পেসের হাইপারসোনিক বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার ডিন মোদ্রুকাস জানিয়েছেন, তারা এই প্রকল্পের জন্য ডুয়াল-মোড র্যামজেটসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি সরবরাহ করবেন, যা সাবসনিক এবং সুপারসনিক উভয় গতিতেই কাজ করতে সক্ষম।